জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান তিনি। আইনজীবী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্থগিত হয় হাইকোর্টে। ফলে জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। বিচারপতি মো. আবদুল হাফিজের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধার পক্ষে এই আবেদন করা হয়।
জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের ওপর দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে জিএম কাদেরের করা আপিল খারিজ করে গত ১৯ জানুয়ারি আদেশ দেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ। ফলে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে এর আগে ৩০ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের দেওয়া আদেশ বহাল থাকে। এ অবস্থায় গত ১৯ জানুয়ারি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জিএম কাদের। আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে ১৯ জানুয়ারি জেলা জজের দেওয়া আদেশটি আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। ফলে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনের পথ খোলে। এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করতে গত বুধবার চেম্বার আদালত থেকে অনুমতি নেন জাপার সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা।
তার অন্যতম আইনজীবী হেলাল উদ্দিন বলেন, আবেদনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আবেদনটি করা হয়।
প্রসঙ্গত, জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর জিয়াউল হক মৃধা মামলাটি করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। আদেশটি প্রত্যাহার চেয়ে জিএম কাদের আবেদন করেন। জিএম কাদেরের আবেদন গত ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করেন তিনি। আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন রাখা হয়। এ অবস্থায় শুনানি এগোনোর জন্য আবেদন করেন জিএম কাদের, যা গত ২৪ নভেম্বর খারিজ হয়। এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ স্থগিতাদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে জিয়াউল হক মৃধা আপিল বিভাগে যান। আপিল বিভাগ তার করা আবেদন নিষ্পত্তি করে গত ১৪ ডিসেম্বর আদেশ দেন। পাশাপাশি জেলা জজ আদালতে থাকা জিএম কাদেরের আপিল দ্রুত শুনানি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিবিধ আপিল জেলা জজ আদালতে ১৯ জানুয়ারি খারিজ হয়।
বৃহস্পতিবার জিএম কাদেরের আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পর ক্যাভিয়েট (অবহিত করতে) দায়ের করা হয়। তাই কোনো পক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো ও আবেদনের কপি দেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আবেদনের কপি পাইনি।
জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে জিয়াউল হক মৃধার মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাপার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বিবাদী জিএম কাদের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকার পরও জালজালিয়াতির মাধ্যমে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিল করেন। নিজেকে জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। ২০২২ সালের ৫ মার্চ গাজীপুর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা আতাউর রহমান সরকারসহ কয়েকজনকে তিনি দল থেকে বহিষ্কার করেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মসিউর রহমান রাঙ্গাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেন। আর গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে (জিয়াউল হক মৃধা) জাপা থেকে বহিষ্কার করেন জিএম কাদের। এ সিদ্ধান্ত অবৈধ বলেও অভিযোগ মৃধার।
- Tags:
- রাজনীতি
- জিএম কাদের
