জরাজীর্ণ মোগল আমলের বাল্লেগশাহ মসজিদ
অযত্ন আর অবহেলায় ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বালেগশাহ তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের দাঁড়াচৌ গ্রামে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদটি দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয় প্রবীণ মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুদূর ইয়ামেন থেকে হজরত শাহ জালাল (রহ.),বাল্লেগশাহ ও তালেবশাহ ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রথমে ভারতের দিল্লি আসেন। সেখান থেকে বাল্লেগশাহ তখনকার সময়ে বন-জঙ্গলবেষ্টিত এবং বাঘসহ বিভিন্ন প্রকার হিংস্র্র প্রাণীতে ভরা দাঁড়াচৌ গ্রামকে বেছে নেন। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। একসময় এলাকাবাসী ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে আসেন। ওই সময় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য কোনো মসজিদ না থাকায় ফকির বালেগশাহ স্থানীয়দের নিয়ে চুন-সুরকি দিয়ে ভেতর-বাইরে নান্দনিক নিপুণ কারুকাজখচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেন। এ অঞ্চলে কোনো মসজিদ না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসতেন মুসল্লিরা।
মধ্যযুগে নির্মিত ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি দরজা। ৩০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারতেন। কালক্রমে মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এক যুগ পূর্বে এলাকাবাসী মসজিদটির পেছনে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করেন। নতুন মসজিদ নির্মিত হওয়ায় ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বাল্লেগশাহ মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে ভেতরে-বাইরে শ্যাওলা জমাট বাঁধে। লোকজন বাইরে ইটের টুকরো, বালু ও অন্যান্য বস্তু স্তূপ করে রাখতে শুরু করে। মসজিদের ভেতরে জেনারেটর রুম এবং পরিত্যক্ত মালামাল রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের চরম অবহেলায় ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী মসজিদটি পরিত্যক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়। মসজিদের সামনে খোদাইকৃত শিলালিপি থেকে জানা যায়, পঞ্চদশ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। নাঙ্গলকোটে মোগল আমলে নির্মিত এটিই একমাত্র স্থাপনা। শিগগিরই মসজিদটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা না হলে ইতিহাস থেকে মুছে যাবে ঐতিহাসিক এ স্থাপনা।
দাঁড়াচৌ গ্রামের ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, মসজিদটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে নাঙ্গলকোটের ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে মুছে যাবে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের অধীনে নিয়ে মসজিদটি সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হোক। বাঙ্গড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, দাঁড়াচৌ মসজিদটি ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করেছে। এটি সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহবুব বলেন, মসজিদটি সংস্কারের জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগকে চিঠি দেব, যাতে দ্রুত সংস্কার করা হয়।
স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলেও একই অনুভূতি জানা যায়। ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদটি সংস্কার করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হোক। সরকারের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এর সংস্কার হোক এবং ইতিহাসবিদ ও পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হোক।
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Join the conversation