10:09:50 am
Sunday, June 21

শনিবার বিএনপির শোডাউন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা

আজ শনিবার সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। একই দিন পাল্টা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আজ শনিবার সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। একই দিন পাল্টা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও শোডাউন ঘিরে তৃণমূলে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এতদিন উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। এসব কর্মসূচির বিপরীতে আওয়ামী লীগও পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সরব ছিল। সরকার পতনসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিরোধী দলগুলো। 
 
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, আজ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় নিজ ইউনিয়নের পদযাত্রায় অংশ নেবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার জিনারদি ইউনিয়নে, আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কুমারকান্দি ইউনিয়নে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকায় অবস্থান করবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর আছেন। এ ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্যসহ বাকি নেতারা নিজ নিজ এলাকার পদযাত্রায় অংশ নেবেন।
 
অন্যদিকে বিএনপির পদযাত্রাকে সামনে রেখে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে আজ শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। অবশ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো পাল্টা কর্মসূচি নয়, নির্বাচন পর্যন্ত কর্মসূচির এরপর ধারাবাহিকতা এটি। বিগত দিনগুলোতে একই দিনে কর্মসূচি থাকলেও কোনো সংঘাত হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। আওয়ামী লীগ জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশ করবে। বিএনপি যদি পদযাত্রার নামে সহিংসতা করে, সমুচিত জবাব দেবে আওয়ামী লীগ। এ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। 
 
এ ছাড়া সারা দেশে বাকি ৭৬টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪০টিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেতাদের নিজ নিজ জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় নেতারা যাবেন না সেখানে জেলার নেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশ করতে বলা হয়েছে। ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার নেতারা উপস্থিত থাকবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা শুধু একটি ইউপি সমাবেশে যোগ দেবেন। জেলা ও উপজেলা নেতাদেরও আলাদা ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি-জামায়াত যাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচির নামে সহিংসতা করতে না পারে তার জন্য তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। আর আওয়ামী লীগ সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে শান্তি সমাবেশ করবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না। তারা যদি নৈরাজ্য বা সহিংসতা করে নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে জবাব দেবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি কর্মসূচির নামে যাতে সহিংসতা না করতে পারে তাই আজ শনিবার ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সংগঠিত করা। তাদের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও থাকবে।
 
আওয়ামী লীগ পথ হারিয়ে বিএনপির পায়ে পায়ে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শুক্রবার রাজধানীর আসাদগেটে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ পথ হারিয়ে বিএনপির পায়ে পায়ে হাঁটছে। জনসমর্থন যখন শূন্যের কোঠায়, তখন পুলিশের মাধ্যমে হুমকি-ধমকি প্রদানই আওয়ামী লীগের একমাত্র শক্তি। বিএনপির কোনো কর্মসূচির আগে পুলিশ দিয়ে কর্মী গ্রেফতার করিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।