বৈদেশিক ঋণের ২০ শতাংশই যাচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে
স্বাধীনতার পর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৫১ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ৯ হাজার ৪৬৯ কোটি ডলার বা ৯৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পাইপলাইনে পড়ে আছে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। বিদেশ থেকে নেওয়া মোট ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ খাতের জন্য; মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ‘ফ্লো অব এক্সটার্নাল রিসোর্সেস ইনটু বাংলাদেশ ২০২১-২২’ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এ তথ্য।
প্রতিবেদন তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণের মধ্যে বিদ্যুতের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গেছে যোগাযোগ খাত, ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে কম ঋণ নেওয়া হয়েছে ধর্মীয় সংস্কৃতি, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা খাতে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রকাশিত ‘ফ্লো অব এক্সটার্নাল রিসোর্সেস ইনটু বাংলাদেশ ২০২১-২২’ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এ তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ সময়ে অনুদান এসেছে ৬৫ দশমিক ৫৮ কোটি ডলার বা ০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের।
বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের শীর্ষে রয়েছে বিদ্যুৎ খাত। এ খাতের জন্য নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ডলার বা ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য। ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬২১ কোটি ডলার বা ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়া হয়েছে সরকারি সাধারণ সেবা খাতের জন্য। ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ২৯২ কোটি ডলার বা প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোট বিদেশি ঋণের ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকার উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে ৭৬৬ কোটি ডলার, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য ৬৫৮ কোটি ডলার। এ ছাড়া হাউজিং খাতের জন্য সরকার অর্থছাড় করতে পেরেছে ৬৪৭ কোটি ডলার। ঋণ দেওয়ার শীর্ষে রয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব ব্যাংক দিয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২০ বিলিয়ন ডলার, জাপান ১৪ ও চীন ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে ৫৭৮, জাতিসংঘ থেকে ২২৯, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২৯, যুক্তরাজ্য থেকে ২২২, কানাডা থেকে ৮৮, জার্মানি থেকে ১৫৮, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ১২২, ভারত থেকে ১৫৪ এবং ইউনিসেফ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ১৫১ কোটি ডলার।
এদিকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। ২০২১ সালে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ৭০.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৬০.৪১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ২০১১ সালের ২৭.০৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৩৮ শতাংশ বেড়ে ২০২১ সালে দাঁড়ায় ৯১.৪৩ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৯৫.৮৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের মজুদ ছিল ৭৩.৫০ বিলিয়ন ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ সালে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ ৭০.০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৬০.৪১ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণের মধ্যে ৬২.৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ পেয়েছে পাবলিক সেক্টর।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিতরণের পরিমাণ ছিল ১০.২১ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালে তা ১৩.৭৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়; এর মধ্যে ৯.৩৬ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয় পাবলিক সেক্টরে। আরও জানা গেছে, ২০২১ সালে দেশের লং-টার্ম প্রিন্সিপাল পেমেন্ট আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪.২ বিলিয়ন ডলারে। এ বছর সুদের অর্থপ্রদান ২৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১.০৮ বিলিয়ন ডলার। লং-টার্ম ইন্টারেস্ট পেমেন্টের ১.০৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে শুধু পাবলিক সেক্টরই দিয়েছে ৯৮৫.৪ মিলিয়ন ডলার।
দেশের বৈদেশিক ঋণ থেকে রফতানির অনুপাত ২০২০ সালে ৫১.৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৯০ শতাংশ; পরের বছর তা ১৮৩.৫ শতাংশে এ নেমে আসে। বৈদেশিক ঋণ থেকে রফতানি অনুপাত সাধারণত একটি নির্দিষ্ট দেশের ঋণের বোঝা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- Tags:
- বৈদেশিক ঋণ
- বিদ্যুৎ খাতে

Join the conversation