01:37:52 am
Friday, August 21

মিয়ানমারের গণহত্যা কখনই মেনে নেওয়া যায় না: গাম্বিয়া

মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির জান্তা বাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ঘটিয়েছে তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে আরো সক্রিয় হতে হবে এবং সকলকে সংহতি প্রকাশ করতে হবে। 

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদো টাঙ্গারা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোববার বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতায় এমন মন্তব্য করেন। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রাজনৈতিক সম্পর্ক ইস্যুতে দুপক্ষের মধ্যে একটি নথি সই হয়।


গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদো টাঙ্গারা ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোববার বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশ সফরে আসার পেছনে ৩টি কারণ রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ইস্যু, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা দুপক্ষের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে চাই। 

এরই মধ্যে কক্সবাজারের একাধিক রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন কেরে সরেজমিন এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখেছি। রোহিঙ্গা বোঝা কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশ অসাধারণ মানবাক উদারতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু এই সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে আরো সক্রিয় সহযোগিতা করতে হবে। গাম্বিয়া এই সঙ্কট সমাধানে সহযোগিতায় সবসময়েই বাংলাদেশের পাশে থাকবে। মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির জান্তা বাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা ঘটিয়েছে তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যে মামলা চলছে সেই মামলা চালানোর ব্যয়ভার কমাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি সকলের সহিংস প্রকাশ করা জরুরি। রোহিঙ্গা সঙ্কটে মানবিক সহায়তার তহবিলে ঘাটতি পড়েছে, সকলের উচিত এই ঘাটতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করা।

পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদো টাঙ্গারা বলেন, বাংলাদেশের স্থপতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’ এই নীতিতে যে পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন করেছেন তার প্রতি স্যালুট জানাই। গাম্বিয়াও তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে এই বিষয়টাতেই জোড় দেয়।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদো টাঙ্গারা বলেন, গাম্বিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু, প্রযুক্তিসহ সম্পর্কের সকল ইস্যুতে আরো জড়ালো সম্পর্ক গড়তে চায়। অতি সম্প্রতি গাম্বিয়া তার পররাষ্ট্র নীতিতে অর্থনৈতিক কূটনীতি যোগ করেছে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে চাই। অর্থনৈতিক কূটনীতি গাম্বিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ইস্যু। দুপক্ষের উন্নয়নে বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি মিশনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় যে অবদান রাখছে তার জন্য দেশটির কাছে কৃতজ্ঞতা।

Share this post

Join the conversation