সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় হযবরল
বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে সাবেক রাষ্ট্রপতির তালিকায় সর্বশেষ নাম মো. জিল্লুর রহমান। তার কার্যকাল শেষ হয় ২০১৩ সালের ২০ মার্চ। আর তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া বর্তমান টানা দ্বিতীয় মেয়াদের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
ওয়েবসাইটে দেওয়া বর্তমান বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ‘জীবনালেখ্য’তে তার কার্যকালের প্রথম মেয়াদ শুরুর তারিখ লেখা আছে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। তাহলে মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে তার কার্যকাল ২০১৩ সালের ২০ মার্চ সম্পন্ন হওয়ার তারিখ থেকে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়া পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে কে ছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির তালিকায় তা উল্লেখ নেই। যদিও ওই সময় ‘অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির’ দায়িত্ব পালন করেন মো. আবদুল হামিদ। ওয়েবসাইটে দেওয়া রাষ্ট্রপতির ‘জীবনালেখ্য’তে এ তথ্য আছে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর শেষ কার্যদিবস ছিল ২০০২ সালের ২১ জুন। ওই দিন থেকে ২০০২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার দিন পর্যন্ত ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত’ ছিলেন তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার। সাবেক রাষ্ট্রপতির তালিকায় তিনি ১৯তম রাষ্ট্রপতি।
আবার মো. আবদুল হামিদ প্রথম মেয়াদে ২৪ এপ্রিল ২০১৩ থেকে ২৩ এপ্রিল ২০১৮ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির তালিকায় সেই তথ্যটিও নেই। এর ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতির তালিকা দেখে নবীন বয়সি বা বিদেশি কেউ ভুলভাবে মনে করতে পারেন, ২০১৩ সালের ২০ মার্চ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর দিন থেকে একই ব্যক্তি একই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি আছেন। যদিও আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি থাকা এই সময়ে আলাদা তিনটি মেয়াদের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
তবে সঠিক তথ্য জানতে কেউ বঙ্গভবনের ওয়েবসাইট থেকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জীবনবৃত্তান্ত এবং সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকা পড়লেও বিভ্রান্ত হবেন। কারণ জীবনবৃত্তান্তে টানা দুই মেয়াদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে যথাক্রমে ২০ ও ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় ২০ ও ২১তম রাষ্ট্রপতির নামের ঘরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও মো. জিল্লুর রহমানের নাম লেখা আছে।
শুধু তাই নয়, একাধিক মেয়াদে রাষ্ট্রপতি থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতিদের নামের তালিকায় কারও কারও একেকবার একেক বানানে দায়সারাভাবে নাম লেখা আছে। যেমন- তালিকায় ১৫ ও ১৭ নম্বরে একই ব্যক্তির নাম দুই বানানে লেখা আছে যথাক্রমে ‘সাহাবুদ্দিন আহমদ’ ও ‘সাহাবুদ্দীন আহমদ’। সাবেক এই প্রধান বিচারপতির নামের বানানে একবার ই-কার ও আরেকবার ঈ-কার দিয়ে ছোট বিভ্রান্তি রাখলেও সাবেক আরেক রাষ্ট্রপতির নামের বানানে আছে বিস্তর বিভ্রান্তি।
সাবেক রাষ্ট্রপতিদের নামের তালিকায় ১৩ ও ১৪ নম্বরে নাম লেখা আছে যথাক্রমে ‘হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ’ ও ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ’। এ ছাড়া ১৩ নম্বর ক্রমিকে নামের শুরুতে ‘লে. জেনারেল’ এবং শেষে ‘এনডিসি, পিএসসি’ লেখা আছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তির নাম পড়তে হচ্ছে দুইভাবে। প্রসঙ্গত বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচন দফতরে জমা দেওয়া হলফনামায় তার নাম লেখা আছে ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ’।
এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকারের নামের বানান ইংরেজিতে ‘জমিরউদ্দিন’ একশব্দে লেখা।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তার ছেলে মুহম্মদ নওশাদ জমির। নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন দফতরে জমা দেওয়া হলফনামায়ও এই প্রার্থীর পিতার নাম লেখা আছে, ‘মুহম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার’। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতিদের তালিকায় তার নাম বাংলায় লেখা আছে আলাদা আলাদা শব্দে ‘মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার’।

Join the conversation