বেপরোয়া ছাত্রলীগ নেত্রী, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
ছাত্রলীগের সদস্যরা যেন কিছুই আমলে নিতে চাইছে না। এমনকি আওয়ামী লীগের উপদেশ কিংবা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সতর্কবার্তা ও আমলে নিচ্ছেন না তারা।
ছাত্রলীগের সদস্যরা যেন কিছুই আমলে নিতে চাইছে না। এমনকি আওয়ামী লীগের উপদেশ কিংবা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সতর্কবার্তা ও আমলে নিচ্ছেন না তারা। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বেপরোয়া আচরণের হাত থেকে ভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থী কেউই রেহাই পাচ্ছেন না বলে প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। বুধবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে এক ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতনের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আসার ঘটনায় সংগঠনটির এক নেত্রী দেশের সংবাদপত্রগুলোর শিরোনাম হয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। নির্যাতনের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ওই ছাত্রী। লিখিত পত্রে নিজের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, গত বুধবার প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়। এ জন্য তিনি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের এক আবাসিক ছাত্রীর কাছে অতিথি হিসেবে ওঠেন। বৃহস্পতিবার তাবাসসুম নামের এক ছাত্রী তার কক্ষে দেখা করতে যেতে বলেন। কিন্তু অসুস্থ থাকায় যথাসময়ে দেখা করেননি তিনি। এরপর তার ওপর চড়াও হন নেত্রীরা। পরে তাবাসসুমের কক্ষে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন তারা।
রোববার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরীর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা গণরুমে এ ঘটনা ঘটান। নির্যাতনের সময় তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গালাগাল ও ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন দফতরে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
এদিকে ছাত্রলীগ নেত্রীর এই বীভৎস নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ সময়ের আলোকে বলেছেন, অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষের কথা শুনে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি কমিটি করেছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়াতে দেখা গেছে। কোনো কোনো ঘটনায়, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত নেতা বা কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও ছাত্রলীগের আদর্শচ্যুত নেতাকর্মীর উদ্দেশে শক্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাতেও যে কোনো কাজ হয়নি, রোববার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের ঘটনাটিই তার প্রমাণ।
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বেপরোয়া আচরণ শুধু সংগঠনের ঐতিহ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। বেপরোয়া নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে এ সংগঠনটির কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছে অভিজ্ঞমহল। আমরা প্রত্যাশা করি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অবিলম্বে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
