03:56:36 am
Sunday, June 21

কুমিল্লার চতুর্থ না সিলেটের প্রথম

অনুশীলন শেষ। কোচিং স্টাফ এবং সাপোর্ট স্টাফের সদস্যরা একাডেমি মাঠে দাঁড়িয়ে গেলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। বেশ খোশমেজাজে থেকেই ফেমবন্দি হলেন তারা। তবে দলছুট হওয়ার একটা বেদনাও প্রকাশ পেল এতে। দল নিয়ে এভাবে যে আর অনুশীলনে আসা হবে না। বিপিএলের নবম সংস্করণই তো শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ। সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনাল, সেখানে কুমিল্লা মাঠে নামবে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে।
 
কুমিল্লা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এর আগে আরও দুবার শিরোপা ঘরে তুলেছে দলটি। বিপিএলের সবশেষ চার আসরে তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলতে যাওয়া দলটির লক্ষ্য আরও একবার শিরোপাটি ঘরে তোলা। অভিন্ন লক্ষ্য সিলেটেরও। সিলেটবাসীর চাওয়া পূরণে তারা বরং আরও বেশি মরিয়া। তাদের যে বিপিএল শিরোপার স্বাদ নেওয়া হয়নি। স্বাদ নেবে কি, সিলেটের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি এবারই প্রথম টুর্নামেন্টটির ফাইনালে। মাশরাফি বিন মর্তুজা নামক এক পরশপাথরের ছোঁয়ায় এই অসাধ্য সাধন করেছে সিলেট স্ট্রাইকার্স, যার ঝুলিতে আছে চারবার বিপিএলের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার।
 
সিলেটের আজন্ম আক্ষেপ ঘুচিয়ে আরও একবার সোনালি স্মারকটা উঁচিয়ে ধরবেন বিপিএল ইতিহাসের সফল অধিনায়ক, ভক্তকুলের প্রত্যাশা এটাই। কিন্তু ফাইনালের আগের দিন বুধবার সেই মাশরাফিরই দেখা নেই। দলের অনুশীলনে আসেননি। ছিলেন না শিরোপা নিয়ে হওয়া দুই অধিনায়কের আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনেও। সেখানে তার প্রক্সি দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তবে আজ মাঠে সিলেটকে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফিই। ব্যক্তিগত কাজ সেরে রাতেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। কোচিং স্টাফ এবং সতীর্থদের সঙ্গে মিলে করে ফেলেছেন লড়াইয়ের পরিকল্পনাও।
 
এবার সেই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়নের পালা। কিন্তু কুমিল্লার মতো শক্তিধর দলের বিপক্ষে, যারা টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে এসেছে, তাদের বিপক্ষে সেটা যে সহজে করা যাবে না, মাশরাফি তা ভালোভাবেই জানেন। যদিও প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রেখেই শিরোপা জয়ের ছক কষেছেন তিনি, ‘ফাইনালের প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে অনেক অনেক ভালো দল। এর মানে এই নয় যে আমরা ভালো খেলতে পারব না।’ মাশরাফি যোগ করলেন, ‘নিজেদের দিকে যদি মনোযোগ ঠিক রাখতে পারি, গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় যদি অবদান ঠিকমতো রাখতে পারি, তাহলে কেন নয়?’
 
ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা নাজমুল হোসেন শান্ত তো প্রতিপক্ষ নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছেন না। তিনি নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই বেশি মনোযোগী, ‘দুই দল ভালো বলেই ফাইনালে উঠেছে। আমরা কাদের বিপক্ষে খেলছি, এটা বেশি জরুরি না। আমার কাছে বেশি জরুরি কালকের পরিকল্পনা, সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন করব। অবশ্যই তারা ভালো দল। তবে নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে, তারাই ম্যাচ জিতবে। তার বিপক্ষে খেলছি, বিদেশি ক্রিকেটার কি রকম, এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই আমরা।’
 
এই বিপিএলে দুই ফাইনালিস্টের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল বিপরীত গতিতে। শুরুর পাঁচ ম্যাচই জিতেছিল সিলেট আর নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই হেরে বসেছিল কুমিল্লা। তারাই টানা ১০ ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসেবে উঠে যায় ফাইনালে। এর মধ্যে দুবার সিলেটকে হারিয়েছে কুমিল্লা। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ধারাটা আজকের ফাইনালেও অব্যাহত রাখতে চান দলটির অধিনায়ক ইমরুল কায়েস, ‘তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। বিশেষ করে তাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা। তবে আমরা তাদের দুটি ম্যাচে হারিয়েছি...। সিলেট অবশ্যই শক্তিধর দল। আমাদের তাই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তাহলেই সম্ভব (চ্যাম্পিয়ন হওয়া)।’
 
বিপিএলে যে তিনটি শিরোপা কুমিল্লা জিতেছে, এর দুটোই এসেছে ইমরুলের নেতৃত্বে। চার শিরোপাজয়ী মাশরাফির পর তিনিই টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল অধিনায়ক। আজ তার লক্ষ্য থাকবে তৃতীয় শিরোপা জিতে ব্যবধান কমানো, অন্যদিকে মাশরাফির চাওয়া শিরোপা সংখ্যা পাঁচে উন্নীত করা। যদি ইমরুলের চাওয়া পূরণ হয়, তাহলে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলবে কুমিল্লা। অন্যদিকে মাশরাফির চাওয়া পূরণ হলে আজন্মের আক্ষেপ ঘুচবে সিলেটের।
 
ওহ, আরেকটি কথা-বিপিএলের ফাইনালে হারে না কুমিল্লা, হারে না মাশরাফির দলও। আজকের ফাইনাল অন্তত একপক্ষের অজেয় গৌরব ক্ষুণœ করবে।