04:02:21 am
Sunday, June 21

কক্সবাজারের হোটেলে নারী খুন, ঘাতক গ্রেফতার

কক্সবাজারে সি-বার্ড নামে একটি হোটেলে খুন হন ২৭ বছর বয়সী এক নারী। হোটেলের এন্ট্রি তালিকা অনুযায়ী তার নাম জেসমিন আক্তার। যদিও র‌্যাব বলছে, ওই নারীর সঠিক নাম পরিচয় এখনো মেলেনি। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনি মোস্তাফিজুর রহমানকে (৫১) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

কক্সবাজারে সি-বার্ড নামে একটি হোটেলে খুন হন ২৭ বছর বয়সী এক নারী। হোটেলের এন্ট্রি তালিকা অনুযায়ী তার নাম জেসমিন আক্তার। যদিও র‌্যাব বলছে, ওই নারীর সঠিক নাম পরিচয় এখনো মেলেনি। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনি মোস্তাফিজুর রহমানকে (৫১) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে উঠলেও, তারা তা ছিলেন না। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা হোটেলে আসেন। সেখানে দু‘জনের মধ্যে টাকা নিয়ে বাগবিতন্ডা হলে মোস্তাফিজুর ওই নারীকে হত্যা করে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর চৌধুরীরহাট এলাকা থেকে মোস্তাফিজুরকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় র‌্যাব।

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম। গ্রেফতার মোস্তাফিজুর বাগেরহাট জেলার আতাইকাঠি এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে।

মাহবুব আলম বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌর শহরের বাজারঘাটা এলাকায় সি বার্ড আবাসিক হোটেল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার মোস্তাফিজুর রহমান নিহত নারীসহ স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই হোটেলে ওঠেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মোস্তাফিজ হোটেলের রুমের বাইরে তালা দিয়ে চলে যান। পরে ভেতরে আলো জ্বলতে দেখে হোটেল বয় ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে মোস্তাফিজ পলাতক ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের পর মোস্তাফিজ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে হোটেলে উঠলেও তারা স্বামী-স্ত্রী নন। আগেও কয়েকবার তিনি অন্য নারীদের নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াত করেছেন। তবে এবার এই নারীকে নিয়ে হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে বাক-বিতন্ডা হয়। টাকা কম দেওয়া নিয়ে এ বাক-বিতন্ডা হয় বলে মোস্তাফিজ জানিয়েছেন। এর সূত্র ধরে ওই নারীর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে হোটেল থেকে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ওই নারীকে নিয়ে মোস্তাফিজ হোটেলে প্রবেশ করেন। তার নাম হোটেল রেজিস্ট্রারে জেসমিন আক্তার লেখা হয়। এছাড়া নিহত নারীর সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। এমনকি নিহত তার অভিভাবকত্ব কেউ দাবি না করায় তার সম্পর্কে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করে পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর নিহত নারীর অভিভাবকত্ব কেউ দাবি না করায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে অজ্ঞাত হিসেবে লাশ দাফন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোপূর্বে মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচবার গ্রেফতার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও কক্সবাজার জেলায় চারটি মামলা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ জুন জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নূরুল আবছার বলেন, ঘটনার পর মোস্তাফিজুর রহমান কখনও মসজিদে আবার অন্যস্থানে আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতারের পর তল্লাশি করে তার পকেট থেকে আগ্রা ১০০ নামক সিলডেনাফিল গোত্রের যৌন উত্তেজক ওষুধ পাওয়া গেছে। তার অপরাধ ও চরিত্র বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় তিনি পেশাগতভাবে মাদক ব্যবসায়ী ও নারী আসক্ত ছিলেন।