৮০ তে পা দিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৮০তম জন্মদিন আজ রোববার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয়ভাজন কামালপুর গ্রামের সদালাপী ও মিষ্টভাষী সেই ছাত্রলীগ নেতা এখন ৮০ বছরের প্রবীণ এবং দেশের রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৮০তম জন্মদিন আজ রোববার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয়ভাজন কামালপুর গ্রামের সদালাপী ও মিষ্টভাষী সেই ছাত্রলীগ নেতা এখন ৮০ বছরের প্রবীণ এবং দেশের রাষ্ট্রপতি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে এক সাথে কাজ করতে চান তিনি।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাবা মো. তায়েব উদ্দিন ও মা মোছা. তমিজা খাতুন। তিনি তিন ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের বাবা। আবদুল হামিদ বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি। তিনি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি। কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবন শুরু। এরপর ভৈরব কেবি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এসএসসি পাস করেন নিকলী উপজেলার গোড়াচাঁদ হাইস্কুল থেকে। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পাস করার পর ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি নিয়ে কিশোরগঞ্জ বারে আইন পেশায় যোগ দেন আবদুল হামিদ।
ছোটবেলা থেকেই মো. আবদুল হামিদ সাধারণ মানুষের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। মাধ্যমিক স্কুলে পড়ার সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার প্রিয় সংগঠন ছিল ছাত্রলীগ। ১৯৫৯ সালে কিশোরগঞ্জ মহকুমা শহরে ছাত্রলীগের হাল ধরেন আবদুল হামিদ। ১৯৬১ সালে কলেজের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি যোগ দেন স্বৈরশাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। তখন তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ।
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সপ্তম সংসদে ১৯৯৬ সালের ১৩ জুলাই থেকে ২০০১ এর ১০ জুলাই পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ এর ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকার হিসাবে সংসদ পরিচালনা করেন আবদুল হামিদ। আর নবম সংসদে নির্বাচিত হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার হন।
অর্ধশতকের অধিককাল ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এ মানুষটি চরম দুর্দিনেও তার আদর্শ ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হননি। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও জীবনদর্শনকে আত্মস্থ করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আপন যোগ্যতাবলে হয়ে উঠেছেন রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি সর্বমহলে জনপ্রিয়।
