08:42:17 pm
Sunday, August 23
কনস্টেবলের প্রেমে গার্মেন্টকর্মী

কনস্টেবলের প্রেমের ফাঁদে গার্মেন্টকর্মী

ইভটিজিংয়ের অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন গার্মেন্টকর্মী রিতা (ছদ্মনাম)। সেখান থেকেই পরিচয়। গড়ে ওঠে প্রেম অতঃপর গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। শেষ পর্যন্ত সেই পুলিশ কনস্টেবলের প্রেমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারায় রিতা (২১)।

রিতা হালুয়াঘাট উপজেলার জয়রামকুড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের কন্যা। তিনি বর্তমানে কাঁঠালতলী সফিপুরে লিজ ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। অপরদিকে পুলিশ কনস্টেবল মো. মাসুদুর রহমান শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলার গড়জরিপাড়ার আব্বাহাজল ওরফে জয়নাল আবেদীনের পুত্র।

এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মাসুদের বাড়িতে গেলে মাসুদ গার্মেন্টকর্মী রিতার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।

রিতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুর জেলার সফিপুরে থাকাকালীন শামসুল নামক এক ব্যক্তির নামে অভিযোগ নিয়ে গিয়েছিলেন কালিয়াকৈর থানায়। সেখানেই পরিচয় হয় পুলিশ কনস্টেবল মাসুদের সঙ্গে। রিতা বলেন, সহযোগিতা করার কথা বলে ফোন নম্বরটি চেয়ে নেন।

পরিচয় চান, কোথায় থাকি, কিভাবে থাকি? বাসায় যেতে চান। আমাকে প্রায়ই ফোনে ডিস্টার্ব করতে থাকেন।

বিরক্ত করার কারণে একপর্যায়ে আমি মির্জাপুর সাউথ ইস্ট গার্মেন্টে চাকরি নিয়ে দূরে চলে যায়। সেখানেও পিছু ছাড়েনি মাসুদ। গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন প্রায়ই। মানুষের সামনে বউ বলে পরিচয় দিতেন আমাকে। আমি অনেকের কাছেই বিচার চেয়ে প্রতিকার পায়নি।

একদিন-দুইদিন-তিনদিন যায়, আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে থাকেন। প্রথমে বোন দাবি করে কথা বলতে চায়, তারপর দাবি করে বন্ধুত্বের। একপর্যায়ে আমাকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করে। এভাবে প্রায় একবছর চলতে থাকে মাসুদের সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা। একসময় আমি চাপ দিই বিয়ে করার জন্য।

একদিন কোনাবাড়ীর কাজী অফিসে বিয়ে করবে বলে নিয়ে গেলেও সেখান থেকে বিয়ে না করে কৌশলে ফিরে আসে। সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় বিরোধ। মাসুদ সকল মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন। রিতা পরে খবর নিয়ে জানতে পারেন মাসুদের একটি পুত্র সন্তানসহ স্ত্রীও রয়েছে।

কিন্তু প্রতারণার জালে ফেঁসে গেলেন রিতা। এ বিষয়ে মুঠোফোনে মাসুদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার বাচ্চা আছে, বউ আছে। সে আমার সঙ্গে সবকিছু জেনেই সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দু’জনের সম্মতিক্রমেই তা হয়েছে। কাজী অফিসে বিয়ে করতে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। মাসুদের দাবি- সবকিছু জেনেশুনেই মেয়েটি তার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। মানবজমিন

Share this post

Join the conversation