মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ২য় রানার্স আপও বিবাহিতা!
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ২য় রানার্স আপও বিবাহিতা!
বিয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগে বিজয়ী জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল মুকুট খোয়ানোর পর অভিযোগ উঠেছে নবঘোষিত দ্বিতীয় রানার্স আপ রুকাইয়া জাহান চমকও ছিলেন বিবাহিতা!
‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের নাম। এরপর গত ছয়দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এভ্রিল ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিজয়ী হওয়ার পর গণমাধ্যমে উঠে আসে তার বিয়ে ও বিচ্ছেদের খবর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। তবে তার দাবি, সে সময় বয়স কম থাকায় মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার অন্তর শোবিজ ও ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। যেখানে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে জেসিয়া ইসলামকে মুকুট পরানো হয়। যথাক্রমে ১ম রানার্স আপ ফাতেমা তুজ জোহরা, ২য় রানার্স আপ রুকাইয়া জাহান চমক ও সঞ্চিতা রানী দত্তকে করা হয়। তবে এভ্রিলের বিতর্ক যেতে না যেতেই আরেকজনের বিয়ের খবর পাওয়া গেল!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে বিবাহিত নামে দেয়া আছে, যেখানে তার স্বামীর নাম দেওয়া ছিল খান এইচ কবির। তাদের বিয়ের স্ট্যাটাসটি পোস্ট করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখে।
বুধবার অনেকেই তাদের এই স্ট্যাটাসটি দেখলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুজনের ফেইসবুক প্রোফাইলে আর কিছুই পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, সেরা দশের মধ্যে আরো ৪-৫ জনের বিয়ের খবর পাওয়া গিয়েছে বলেও জানা গেছে। তথ্যসূত্র : সময় টিভি
জান্নাতুল নাঈম সম্পর্কে যা বললেন তসলিমা নাসরিন
এবার 'মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ' জান্নাতুল নাঈম মতামত দিয়েছেন বুধবার নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
নারীবাদী জনপ্রিয় এই লেখিকা লিখেছেন, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের বাবা গ্রামের গরিব চাষি।
১৬ বছর বয়সে এভ্রিলকে জোর করে বিয়ে দেন। আমার বাবা ধনী, নামি ডাক্তার, মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর ছিলেন।
কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে আমার বাবা বলে দিতেন, আমার মেয়ে পড়াশোনা করবে, বড় হবে। তারপর বিয়ে করতে চাইলে নিজের পছন্দমতো বিয়ে করবে।
তাঁর মতে, এভ্রিলের লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তাকে টিউশনি করতে হয়েছে, কলেজে পড়তে হয়েছে। বারো ক্লাস পর তার আর পড়া হয়নি।
আমার বাবা-মা আমাকে মুখে তুলে খাইয়ে, পরম আদর-যত্নে রেখেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন ডাক্তারি পড়তে। আমি ডাক্তারি পড়েছি। ডাক্তার হয়েছি।
তসলিমা লিখেছেন, এভ্রিল ছিল অসহায়। খাওয়া জোটেনি, টাকা জোটেনি। স্ট্রাগল করেছে বছরের পর বছর। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত একটি বাইক কম্পানির ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছে। ওর আরো বড় হওয়ার স্বপ্ন। আমার অভাব ছিল না।
ডাক্তারি করার পাশাপাশি বই লিখেছি, বইগুলো প্রচুর লোকপ্রিয়তা পেয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে। নানা পুরস্কার এবং সম্মান পেয়েছি বিভিন্ন দেশ থেকে।
এভ্রিল মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় নিজের সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। আমি সাতখণ্ড আত্মজীবনী লিখেছি। কোথাও নিজের সম্পর্কে এক বর্ণ মিথ্যা লিখিনি।
এভ্রিল আর আমার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। কিন্তু দেশের মানুষ যখন আমাদের গালি দেয়, গালিগুলো সব এক।
তসলিমা তাঁর লেখার উপসংহার টানেন এভাবে, সব মেয়েই, সে গরিব হোক ধনী হোক, কালো হোক সাদা হোক, শিক্ষিত হোক অশিক্ষিত হোক, মিথ্যুক হোক অমিথ্যুক হোক, উঁচু জাত হোক নিচু জাত হোক, পুরুষের চোখে এক।
সবাইকে প্রকাশ্যে এবং আড়ালে একইভাবে ডাকে এবং ডাকবে আমাদের মাথার ওপর বসে থাকা সম্মানিত পুরুষজাতি।
