05:45:44 am
Tuesday, August 25

ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় অচল জীবনযাত্রা

ঢাকার আকাশে ভোরের সূর্যের আলোকে মঙ্গলবার সকালে উঁকি মারার সুযোগ দেয়নি কুয়াশা। কুয়াশার চাদরে কয়েক হাত দূরের দৃশ্য দেখা দুরূহ হয়ে পড়ে। সকাল ১০টার পরে দেখা মেলে সূর্যের। আবহাওয়ার এই হাল কেবল রাজধানীতেই নয়, সারাদেশে চলছে। এতে একদিনের ব্যবধানে দেশের সব এলাকায় তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে শুধু শ্রীমঙ্গলে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে তিন ঘণ্টা আকাশে ছিলো বিমানের তিনটি ফ্লাইট। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল সাড়ে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, ঘন কুয়াশা আরও দু'দিন থাকতে পারে। এটি কেটে গেলে ঢাকায় শীত পড়বে। দেশের অন্যান্য এলাকায় শীতের তীব্রতা বাড়বে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ সময় দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ দিন ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এদিকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে কনকনে শীত ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনজীবন। গত এক সপ্তাহ থেকে শীতের হানায় কাবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের দরিদ্র ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। আকাশ ভেঙে ঝরা হিম-ঠাণ্ডা ঘনকুয়াশা অচল করে দিয়েছে জীবনযাত্রা। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সোমবার রংপুরে জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গতকালের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।

ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত চেপে বসেছে তিস্তা, ঘাঘট, দুধকুমার, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদী বেষ্টিত এলাকাগুলোতে। একদিকে কনকনে শীত আর বেলা গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় ঠাণ্ডা বাতাস। রংপুর অঞ্চলে বেলা দুপুর নাগাদ সূর্যের দেখা মিললেও নেই তেমন উষ্ণতা। এই অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ১০ থেকে ১১ ডিগ্রিতে । নদী তীরবর্তী বেশির ভাগ এলাকার মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীতের এই হানায় প্রভাব ফেলেছে কৃষকের ধানের বীজতলাতেও। হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ডিসেম্বরের শেষে উত্তরাঞ্চলে শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। এর সাথে শীতের তীব্রতাও খুব বেড়েছে। এই অঞ্চলে গত তিন চার দিন থেকে তাপমাত্রা ১০-১১ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনে ও রাতের তাপমাত্রা কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে ঘনকুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়াসহ শৈত্য প্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। তবে এই তাপমাত্রা আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

Share this post

Join the conversation