রুচিশীল ব্যবহার আপনারই সম্মান বাড়ায়
ব্যবহারেই বংশের পরিচয়। এটি নামকেওয়াস্তে ব্যবহার হয়নি কখনো। রয়েছে বিস্তর তাৎপর্য। অহেতুক সন্দেহ, আর নিজের পান্ডিত্য দেখানোর জন্য অন্যের সঙ্গে বাজে আচরণ করলে তার ফল মঙ্গল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। থাকে প্রশ্নবিদ্ধ আর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সমালোচিত হওয়ার সুযোগ। মোটেই এটিই সুখকর নয়। শহুরে ঢাকাই বিশ্রি ব্যবহারের মানুষগুলো দেখা যায় রাস্তার নর্দমার মতই। পোশাকের চাকচিক্য আটকিয়ে রাখাতে পারে না তাদের...
ব্যবহারেই বংশের পরিচয়। এটি নামকাওয়াস্তে ব্যবহার হয়নি কখনো। রয়েছে বিস্তর তাৎপর্য। অহেতুক সন্দেহ, আর নিজের পান্ডিত্য দেখানোর জন্য অন্যের সঙ্গে বাজে আচরণ করলে তার ফল মঙ্গল না হওয়াটাই স্বাভাবিক। থাকে প্রশ্নবিদ্ধ আর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সমালোচিত হওয়ার সুযোগ। মোটেই এটিই সুখকর নয়। শহুরে ঢাকায় বিশ্রি ব্যবহারের মানুষগুলো দেখা যায় রাস্তার নর্দমার মতই। পোশাকের চাকচিক্য আটকিয়ে রাখাতে পারে না তাদের অশ্রাব্য ব্যবহারের চাকা। কিন্তু কেন? এমনটি না করলেই বরং বেঁচে থাকা যায় মানুষের মনে। পাওয়া যায় সম্মান। শ্রদ্ধা। চলুন জেনে নেই বিস্তারিত....
একজন মানুষ যখন কাউকে গালি দেয়, সে আসলে কাকে ছোট করে? যাকে গালি দিচ্ছে তাকে, না নিজেকেই? আপনি যতই শিক্ষিত বা উচ্চপদস্থ হোন না কেন, গালি দেওয়া বা বাজে ব্যবহার যদি আপনার স্বভাবে থেকে থাকে তাহলে আপনি গালি দিবেনই। কথাটা নির্দিধায় বলা যায় কারণ, পৃথিবীতে বড় কাজের পাশাপাশি ভালো ব্যবহারের জন্যও সুপরিচিত মানুষের অভাব নেই। ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের কথাই ধরা যাক। তার বিদায়ী অনুষ্ঠানে তুখড় খেলোয়ারের পাশাপাশি, একজন নম্র ব্যক্তিত্বের উপাধিও তিনি পেয়েছেন অনেকের কাছ থেকে। তার ভালো ব্যবহার ও নিরহঙ্কার স্বভাবের প্রশংশায় পঞ্চমুখ ছিলেন বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়েরাও। যদি শচীন টেন্ডুলকার এতো চাপের মধ্যেও নিজেকে সংযত রাখতে পারেন, তাহলে আপনি নন কেন?
ক্যাজুয়াল পরিবেশের কথা বাদ দিলেও, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে সংযত ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন লিডার হিসেবে আপনি যখন নিজের ব্যবহার নিয়েই অসচেতন, তখন প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ প্রতিকূল হওয়াটাই স্বাভাবিক। অকারণ বকাঝকা উল্টো আপনার অ -পেশাদারীত্বের পরিচয় দেয়। এছাড়াও সহকর্মীদের মাঝে বিরক্তি সৃষ্টি হয়, অনুগত্যের অভাব দেখা দেয়, শুরু হয় এক আক্রমণাত্মক পরিবেশ। ফলে তারাও পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ খোঁজেন, উদ্বুদ্ধ হয় তর্কাতর্কির মনোভাবে।
_copy.jpg)
শুধরে নেওয়ার উপায়?
ক্ষমতায় ছোট বলে সম্মানেও কেউ কারো ছোট নয়। বাজে ব্যবহার করে নিজের পক্ষে যুক্তি দেখালে, আপনি নিজেকেই ধোকা দিচ্ছেন। নিজের ভেতরের নম্রতাকেই ধ্বংস করে দিচ্ছেন। খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। শুধু কিছু নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন।
- নিজেকে সবার সমান ভাবাতে শুরু করুন।
- বড় ক্ষমতার সঙ্গে আসা বড় দায়িত্বগুলোকেও অনুধাবণ করুন।
- ‘আমিই ঠিক’ এমন আচরণ বর্জন করুন।
- কাউকে কষ্ট দেওয়ার পর সরি বলার অভ্যাস করুন।
- খারাপ পরিস্থিতিতেও নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করুন।
আপনজন বা বন্ধু মহলে নাকি গালি দেওয়াটা জায়েজ, তবে তারও আছে একটা সীমা। বন্ধু হাসি মাখা গালির মাঝে আদর খুঁজে পেলেও আত্মসম্মানে লাগলে কিন্তু সেও মেনে নিবে না। তাই সময় থাকতে নিজেকে সংযত করুন, মুখের ভাষা ও ব্যবহারে বিশেষ খেয়াল রাখুন। অন্যথায় নিজেকেই একদিন অপদস্ত করে ফিরতে হবে বাড়ি। রাগের মাথায় অনেকেই কী করছেন তা উপলব্ধি করতে পারেন না। তার বকাঝকা বা গালি তখন তার নিজের কানেই পৌঁছায় না। তাই অন্যের অপছন্দ বা ঘৃণাকে এড়িয়ে না গিয়ে তার কারণ জানার চেষ্টা করুন। তা থেকে শিক্ষা নিন এবং নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।
