03:53:13 am
Sunday, June 21
গতর বইস্যা গেলে খামু কি?

গতর বইস্যা গেলে খামু কি?

গতর বইস্যা গেলে খামু কি? বয়স তাঁর ষাটের ঘরে। ২৭ বছর ধরেই চলছে বোঝা বইবার পেশা। জীবনের ভার বইতে বইতে মেরুদণ্ড ধনুকের মত বেঁকে গেছে। হাত, পিঠের পেশীগুলো এখনও সক্ষমতার স্বাক্ষ্য দিলেও তাঁর চিন্তা আছে, আছে কালো কুয়াশার মত শঙ্কা। 'গতর ঠিক থাকলে পেটের চিন্তা করি না। তয় ঘুম হয় না ওই গতরের চিন্তায়ই, গতর বইস্যা গেলে খামু কি? আল্লায়...

গতর বইস্যা গেলে খামু কি?

বয়স তাঁর ষাটের ঘরে। ২৭ বছর ধরেই চলছে বোঝা বইবার পেশা।

জীবনের ভার বইতে বইতে মেরুদণ্ড ধনুকের মত বেঁকে গেছে।

হাত, পিঠের পেশীগুলো এখনও সক্ষমতার স্বাক্ষ্য দিলেও তাঁর চিন্তা আছে, আছে কালো কুয়াশার মত শঙ্কা।

'গতর ঠিক থাকলে পেটের চিন্তা করি না। তয় ঘুম হয় না ওই গতরের চিন্তায়ই, গতর বইস্যা গেলে খামু কি? আল্লায় যেন ঠাস কইরা নিয়া যায়। '

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ফল বাজার থেকে ছবিটি তুলেছেন স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। শ্রম-ঘনত্বই এ দেশের অর্থনীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। শ্রমজীবী মানুষের বিপুল অংশ (৪৭.৫%) কৃষিতে নিয়োজিত।

অন্য দিকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতের চেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রম-নিয়োজন অনেক বেশি। সর্বশেষ শ্রম সমীক্ষা অনুযায়ী ১৫ বছরের উর্দ্ধে শ্রমজীবী লোকের সংখ্যা ৫ কোটি ৪০ লক্ষেরও অধিক, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে মাত্র শতকরা ১২.৫ ভাগ এবং বাকি ৮৭.৫ ভাগ শ্রমজীবী মানুষ নিয়োজিত রয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে।

শ্রম বাজারে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও উল্লেখ্য যে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও উল্লেখযোগ্য হারে কম।

গণতান্ত্রিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সব বিষয়ের সমাধান খোঁজার মতো ন্যূনতম অধিকার অর্জনের সৌভাগ্য হয়নি বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণীর। এই না হওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা প্রকৃত অর্থে শ্রমিক শ্রেণীর দীক্ষার আলোকে দাবি আদায়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে পারিনি। পারিনি আত্মপ্রত্যয়ী হতে। পারিনি লক্ষ্য অর্জনে ত্যাগ স্বীকার করতে।

এই না পারার কারণ হচ্ছে, শ্রমিক হিসেবে শ্রমিক শ্রেণীর নিজস্ব শ্রেণীসত্তায় বিকশিত না হতে পারা। ক্রমান্বয়ে শ্রমিক শ্রেণীকে বহুধাবিভক্তিতে ঠেলে দেয়া হয়েছে। খুব সুকৌশলে ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি’-এর ক্ষেত্রে ‘জাতীয় বেতন কাঠামো’ ও জাতীয় মজুরি কমিশনে বিভক্তি টেনে এর কার্যকারিতা সরকারি ও আধা সরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রেখে বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়।

আর ব্যক্তিমালিকানাধীন শ্রমিককে সেক্টরে শ্রেণীবিন্যাস করে ভিন্ন ভিন্ন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের আওতায় বিভক্ত করে দেয়া হচ্ছে। এই ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের রোয়েদাদ ১০ শতাংশ মালিকও মানেন না।