07:43:49 pm
Sunday, June 21

পোশাক খাতের মতো পুঁজিবাজারও ঘুরে দাঁড়াবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুঁজিবাজারের সংকটও কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। ক্রাইসিসের মধ্যেও আমাদের রফতানি বেড়েছে। পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে, আমরা সেই আশা করি।

দেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুঁজিবাজারের সংকটও কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। ক্রাইসিসের মধ্যেও আমাদের রফতানি বেড়েছে। পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে, আমরা সেই আশা করি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনে ‘অর্থসূচক ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০২৩’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক এই এক্সপোর আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বর মাসে যে রফতানি আয় এসেছে, সেটা সর্বকালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। গত বছর ৫১ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, বছর শেষে সেটা ৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। সেই সাহস নিয়ে এবার ৬৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। ২০২৪ সালে আমরা ৮১ বিলিয়ন ডলার চাই।

তিনি বলেন, উন্নত অর্থনীতির দেশে ৫০ শতাংশের বেশি টাকা পুঁজিবাজার থেকে নেওয়া হয়। আমাদের দেশে সেই অবস্থা নেই। দেশে ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া হচ্ছে। যার জন্য বেশকিছু সমস্যাও হচ্ছে। যদি ৫০ শতাংশ অর্থও পুঁজিবাজার থেকে আসত, তবে আমাদের দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হতে বাধ্য।

টিপু মুনশি আরও বলেন, আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে মহাক্রান্তিকাল এসেছিল, যখন রানা প্লাজা ধসে যায়। বহু শ্রমিক নিহত হলেন। পৃথিবীর ক্রেতারা অস্থির হয়ে পড়েন। গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরাও অস্থির হয়ে পড়েন, আমাদের কী জানি হয়, ক্রেতার যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, কিন্তু একটা জিনিস লক্ষণীয়, আমরা সেই বিপদের পরই ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমরা কম্পলায়েনস করেছি। আজ পৃথিবীর সব থেকে বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি আমাদের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি বলেন, বাজারে না বুঝে বিনিয়োগ করলে অন্যের কাছে আপনার বিনিয়োগ চলে যাবে। তাই বিনিয়োগ শিক্ষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা অনেক বেশি জরুরি। এ জন্য আমরা দুটি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলেছি।

তিনি বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ পুঁজিবাজার গড়তে যা যা দরকার, এখনও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এমন একটি মার্কেট গড়তে যা প্রয়োজন আমরা তাই আনব। আর এতে আমাদের ভুল-ত্রুটি হবে, সমালোচনা হবে। কিন্তু এর রেজাল্ট আপনারা দু-তিন অথবা চার বছর পর পাবেন।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, খুব শিগগির আমরা উত্থানে উঠে যাব। তখন অনেকেই আফসোস করবেন, যারা এখন পুঁজিবাজার থেকে সরে গেছেন।

বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এ মাধ্যমে সহজেই গুজব ছড়ানো হয়। তাই সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব তথ্য বিশ্বাস করার আগে যাচাই করে নিতে হবে।

অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএপিএলসি) প্রেসিডেন্ট আনিস উদ দৌলা এবং ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও।