01:35:25 pm
Friday, August 21
মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের এসএসসি পরীক্ষার্থীর 'আত্মহত্যা'

মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের এসএসসি পরীক্ষার্থীর 'আত্মহত্যা'

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নারী শিক্ষার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী মেহিয়া আক্তার বাবলী(১৭)গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবারের অভিযোগ।

মেহিয়ার পিতার নাম মো. বখতিয়ার রানা এবং মাতার নাম পারুল বেগম। তারা ঢাকার সায়েদাবাদের বাসিন্দা।

জানা গেছে, বাবলী গতকাল বুধবার রাতে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি গ্রামে তার বান্ধবী জয়ার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে আসে। সেখানে মো. লোকমান মিয়ার বাসায় বাবলী আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ রাতে ঐ বাসার একটি কক্ষ থেকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় বাবলীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

বাবলীর মাতা পারুল বেগম জানান, বাবলী ভারতেশ্বরী হোমস থেকে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং আবাসিক হলের ছাত্রী ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে বাবলী ভারতেশ্বরী হোমসের আবাসিক হলে থাকা অবস্থায় কিছুদিন পুর্বে হোস্টেলের ডাইনিং হলে রান্না নিয়ে তার কন্যার সঙ্গে শিক্ষক ও রান্নাঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা কাটাকাটি হয়।

এ বিষয়ে হোমস কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের জানালে তারা হোমসে এসে অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বাবলীর মাও ক্ষমা চেয়ে নেন যেন তার মেয়ে হোমস থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারে।

কিন্ত হোমস কর্তৃপক্ষ তাকে ও তার কন্যাকে ক্ষমা না করে আবাসিক হল থেকে বের করে দেয়। তখন মেয়েকে নিয়ে চরম বিপাকে পরেন তারা।

শেষে নিরুপায় হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষা বাবলী তার বান্ধবী জয়ার বাড়িতে মির্জাপুর পৌর সদরের লোকমান মিয়ার বাসা থেকে দিতে থাকে। গতকাল বুধবার রাতে ঐ বাসার একটি কক্ষে বাবলীর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

রহস্যজনক কারনে বাবলীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বাসার লোকজন মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ রাত সাড়ে দশটার দিকে বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বাবলীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।

বাবলীর পরিবারের অভিযোগ ভারতেশ্বরী হোমস থেকে বের করে দেওয়ার অপবাদ সইতে না পেরে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারা তদন্ত সাপেক্ষ মেয়ের হত্যার বিচার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভারতেশ্বরী হোমসে যোগাযোগ করা হলে হোমস কর্তৃপক্ষ জানান, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারতেশ্বরী হোমসের নিয়মানুসারে বাবলীকে আবাসিক হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বাবলী এখন হোমসের আবাসিক হলের ছাত্রী নয়। সে বাহিরে থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে। কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে এটা তার পরিবারের ব্যাপার হোমসের নয়। এ বিষয়ে তারা আর কথা বলতে রাজি হয়নি।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কি কারনে সে আত্মহত্যা করেছে তার সঠিক কারন এখনো জানা যায়নি।

ময়না তদন্তের পর তার পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this post

Join the conversation