হ্যারির আত্মজীবনীজুড়ে মা ডায়ানা
মা ডায়ানার মৃত্যুর পর একবারই কাঁদতে পেরেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভির সাংবাদিক টম ব্র্যাডবিকে হ্যারি বলেছেন, জনসম্মুখে শোক প্রকাশের সুযোগ তাদের ছিল না।
মা ডায়ানার মৃত্যুর পর একবারই কাঁদতে পেরেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম আইটিভির সাংবাদিক টম ব্র্যাডবিকে হ্যারি বলেছেন, জনসম্মুখে শোক প্রকাশের সুযোগ তাদের ছিল না। খবর বিবিসির। প্রকাশিতব্য আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ নিয়ে আইটিভিকে ওই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন হ্যারি। বিবিসি বলছে, আত্মজীবনীজুড়ে হ্যারি মাকে নিয়ে নিজের শূন্যতার কথা বলেছেন।
‘স্পেয়ার’ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল না। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনে বইটির কিছু কপি আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর বইয়ের মূল বিষয় ফাঁস হয়ে যায়। বিবিসি নিউজ এ বইয়ের একটি কপি পেয়েছে এবং অনুবাদ করেছে। আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছেন, ১৯৯৭ সালের আগস্ট মাসে প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় তার মায়ের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ভাইয়ের সঙ্গে তিনি শেষকৃত্যের ফুটেজটি দেখেছিলেন।
হ্যারি আরও বলেন, কেনসিংটন প্যালেসে ফুল ছড়ানো রাস্তায় ভিড়ের মধ্যে হাঁটার সময় তিনি নিজেকে অপরাধী ভাবছিলেন। ‘আমি সমাহিত করার স্থানে মাত্র একবার কেঁদেছিলাম।’ বলেন হ্যারি। ‘স্পেয়ার’ বইতে এ নিয়ে বিস্তারিত আছে, বলেন তিনি। কেনসিংটন প্যালেসের বাইরে হাঁটার সময় অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল এবং অপরাধবোধ হচ্ছিল তার। হ্যারির ধারণা, উইলিয়ামেরও সে সময় একই অনুভূতি হচ্ছিল।
প্রিন্স হ্যারি আরও বলেন, ‘আমাদের মায়ের কাছে ৫০ হাজার ফুলের তোড়া ছিল। আমরা সেখানে মানুষের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলাম। হাসছিলাম...।’ তিনি আরও বলেন, যাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলাম, তাদের হাত ভেজা ছিল। আসলে চোখের পানিতে তাদের হাত ভিজে গিয়েছিল। সবাই আমার মায়ের কাছের মানুষ ছিল। তবে আমার মায়ের সবচেয়ে কাছের দুজন, সবচেয়ে ভালোবাসার দুজন সেই মুহূর্তে কোনো আবেগ প্রকাশ করতে পারেনি।
স্পেয়ারে হ্যারি বলেছেন, শেষকৃত্যে কীভাবে তিনি মায়ের কফিনের পেছনে পেছনে হেঁটেছিলেন। সেখানে ভিড় ছিল। আর অনেক মানুষের সামনে তিনি কাঁদতে পারেননি। প্যারিসে যেখানে তার মা মারা গিয়েছিলেন, সেই দুর্ঘটনাস্থলে সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন চালককে পেয়েছিলেন বলেন হ্যারি।
