প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২: প্রতিবন্ধী জীবনে আশীর্বাদ
পরের ভিটায় বসবাস করে দিন কাটছিল কচি বেগম আর এনামুলের। শারীরিকভাবে তারা প্রতিবন্ধী। একটি বাড়ি পাওয়ার জন্য এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিল তারা। অপমানের জীবন থেকে মুক্তির তীব্র এক আকাক্সক্ষা। একসময় তাদের জীবনসংগ্রাম নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুনের। তাদেরকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উপহারের বাড়িতে। বাড়ি পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি কচি বেগম আর এনামুল হক। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি পেয়ে তারা ধন্যবাদের পাশাপাশি দোয়া করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।
বলছিলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের পুনর চাঁদপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত প্রতিবন্ধী কচি বেগম আর এনামুলের কথা। ঘর পাওয়ার আগে তারা বসবাস করতেন পরের জমিতে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুনের সহযোগিতায় এখন তাদের ঠিকানা হয়েছে রহনপুর ইউনিয়নের পুনর চাঁদপুর গ্রামের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতে। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে এখন আনন্দে আত্মহারা তারা।
‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সারা দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলায় এ বাড়িগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় তিনটি ধাপে ৬৫৮টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। চতুর্থ ধাপে আরও ৭৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন বাড়িগুলো সঠিকভাবে ও সঠিক নিয়মে নির্মাণ করা হচ্ছে কি না তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোমস্তাপুর ও জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। দুই শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা দুই কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে রান্নাঘর, টয়লেট, সুপেয় পানিসহ বিদ্যুৎ সংযোগ। আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষের জন্য রয়েছে যথেষ্ট জায়গা। উপহারের ঘর পেয়ে হাজারো অসহায় মানুষের মতোই এখন নতুন এক স্বাবলম্বী জীবনের স্বপ্নে বিভোর কচি আর এনামুল।
প্রতিবন্ধী কচি বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমি একজন অসহায় মহিলা। জন্মের দুই বছর পর দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে আমার দুই পা অক্ষম হয়ে যায়। আমি স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারি না। সংসারে আছে আমার বয়স্ক মা আর বাবাহারা একটা ফুটফুটে কন্যাসন্তান। স্বামী তিন মাস আগে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। সংসার চালানোর জন্য কোনো টাকা-পয়সা আমাকে দেয় না। সংসারে একমাত্র আয় করা ব্যক্তি আমার বয়স্ক মা। তবে সংসার চালানোর জন্য এখন আমিও বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করছি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাকেও ভালো রাখেন।’
কথা হয় আরেক প্রতিবন্ধী এনামুল হকের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘আমার মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। আজ আমার একটা পাকা বাড়ি হয়েছে। আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছি। আল্লাহ যেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রাখেন। অনেক বয়স হয়েছে আমার। তাই আমার ইচ্ছে একটি ছোট মুদি দোকান দিয়ে যেন বাকি জীবনটা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়িতে কেমন আছেন-‘উপকারভোগীরা এমন প্রশ্নের জবাবে রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সোহরাব জানান, আমি প্রতিনিয়ত উপকারভোগীদের খোঁজখবর রাখছি। বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তাদের প্রতি আমি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসিত পরিবারগুলো খুব খুশি, কেননা তাদের না ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই, না ছিল নির্দিষ্ট ঠিকানা। এখন তারা ঠিকানা পেয়েছে, শান্তিতে সম্মানের সঙ্গে সুখের নীড়ে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছে। তাই তারা চিরকৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।’

Join the conversation