11:22:44 pm
Saturday, August 22

ভিড় কমেছে মেট্রোরেলের লাইনে, ভ্রমণে স্বস্তি

মেট্রোরেলে চড়তে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁও স্টেশনে যাত্রীরা আসেন। সকাল আটটায় ছেড়ে যাওয়া প্রথম ট্রেনের যাত্রীরা নয় মিনিট আগে স্টেশনে প্রবেশ করার সুযোগ পান। মেট্রোরেল চলাচলের ১২তম দিন দিনে যাত্রীদের তেমন একটা ভিড় দেয়া যায়নি। এদিন আঁগারগাও থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রথম মেট্রোতে যারা যাত্রী হয়েছেন তাদের অধিকাংশই ভোগান্তি নয় বরঞ্চ স্বস্তির ঢেকুর তুলেছেন। 

কেউ এসেছেন প্রথম প্রথমবার। কেউবা বারবার ঘুরে-চড়ে দেখছেন। মেট্রোরেলের যাত্রা কেমন হবে- সেই অভিজ্ঞতা নিতে অনেকে আবার এসেছেন ঢাকার বাইরে থেকেও। তবে অফিসগামী যাত্রীদের অনেকেই কেটেছেন স্থায়ী টিকিট। তাই টিকিট কাটার ঝঞ্ঝাটও এড়িয়ে চলতে পারছেন তারা। অনেকে বলছেন, শুধু আঁগারগাও টু উত্তরা নয়। মেট্রোরেলের পুরো অংশ চালু হলেই বরঞ্চ তাদের জন্য বড় আশীর্বাদ হবে। 

শেওড়াপাড়া থেকে আসা শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস (৬৪) জানান, মেট্রোরেল তো আমাদেরই। শেখ হাসিনা মেট্রোরেল করল, পদ্মাসেতু করল। দ্যাশের তো উন্নয়ন কাজে অগ্রগতি করতাছে। আগে একবার উঠছি। দুইতিনবারই গেছি অ্যানদিয়া। কোনো কাজে নয় বরঞ্চ ঘুরতেই যান তিনি। তবে আজ এসেছেন স্ত্রীকে সঙ্গে করে। 

'আমার খুব ইচ্ছা ছিলো মেট্রোরেলে উঠব। কিন্তু সময় সুযোগ হয়নি বলে উঠতে পারি নাই। আজকে সবাইকে নিয়ে আসছি। ভীষণ ইচ্ছা হচ্ছিলো একটু উঠি, আনন্দ করব। দেখব। আমাদের দেশে এতো সুন্দর এটা মেট্রোরেল হয়েছে, ভীষণ খুশি। আর একটু পর যে উঠব তখন আরও খুশি হবো।' - পরিবারের সবাইকে সঙ্গে করে স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলেই একগাল হাসি ছুঁড়ে দিলেন শাহানা বেগম (৩৮)। 

ফার্মগেটের বাসিন্দা ওমর ফারুক মনে করেন মেট্রোরেলের পুরো পথ চালু হলে এই কষ্ট লাঘব হবে। জানান, এখন যারা এসেছে দেখেন অধিকাংশই ঘুরতে এসেছে। তবে ঢাকাবাসীর যানজটে যে পরিমাণে কষ্ট হয়, সেটার জন্য দ্রুত পুরো পথ চালু করতে হবে।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার এক কলেজের প্রফেসর আহাদ আলী স্ত্রী-কন্যাকে সঙ্গে করে দাঁড়িয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে। তার মতে, দেশের বুকে মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন ভাবেননি। আগে দেশের বাইরে গেছেন, তখন বাসায় এসে গল্প করেছেন মেট্রোরেল ঠিক কেমন। তবে এখন পরিবারের সঙ্গেই উঠতে পারবেন দেশের মেট্রোরেলে। স্বস্তির কথা জানালেন সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী-কন্যাও। 

মেট্রোরেলের আঁগারগাও স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম থেকেই সবাইকে বলে আসছিলাম স্থায়ী পাস নিতে। যার ফলে অনেককেই এসে সহজে ট্রেনে উঠতে পারছেন। যারা প্রথম বা কেবলমাত্র মেট্রোরেলে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এসেছে তারা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকে এখনও স্টেশন সমন্ধে বুঝতে পারেননি তাই তাদেরকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করার জন্যও আমাদের টিম রয়েছে। যাত্রীদের ভিড় আগের থেকে কমে যাবার কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, কেবলমাত্র অফিস ডে এবং একেবারে সকালে তাই। ধীরে ধীরে মানুষ বাড়বে। 

গেল বছরের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন মেট্রোরেল চলছে কেবলমাত্র আগারগাও থেকে উত্তরা রুটে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, দিনে ৪ ঘণ্টা।

Share this post

Join the conversation