12:47:01 pm
Tuesday, August 25

ফারদিন হত্যা মামলা: মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ফুটেজ তদন্তে সিআইডি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন এমন দাবির সপক্ষে ডিবি ও র‌্যাব সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজ দেখিয়েছে তার সত্যতা যাচাই করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও এর প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সময়ের আলোকে জানায়, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা ও সুলতানা কামাল সেতুসহ একাধিক এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সত্যতা যাচাই করছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। আদালতে ডিবি ওই ফুটেজ দিতে চাইলে আদালত তা ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর ওই ঘটনায় দেখানো সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সিআইডিতে পাঠানো হয়। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সময় ও ফারদিনের অবস্থানসহ সবকিছু মিলিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত ফুটেজ থেকে কী পাওয়া গেছে সে বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন সিআইডির ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজীব আল মাসুদ সময়ের আলোকে বলেন, ফারদিন নূর বিশ্ব রোডের সুলতানা কামাল সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ বিষয়ে সিসি ক্যামেরা ফুটেজে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাই আদালতের নির্দেশে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সত্যতা যাচাই করছে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে আমরা আদালতে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল করব।

এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ ও র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ফারদিন নূর বিশ্ব রোডের সুলতানা কামাল সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তারা বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন। র‌্যাব ও ডিবি দুই সংস্থাই সাংবাদিক ও নিহত ফারদিনের বন্ধুদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখান। তবে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে আদালত সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ফরেনসিক করতে নির্দেশ দেন।

এদিকে, ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল রোববার এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য থাকলেও এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্তু ইসলাম মল্লিক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিন নূরের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগে ৫ নভেম্বর তিনি রামপুরা থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা। মামলার একমাত্র নামীয় আসামি ও ফারদিনের বান্ধবী বুশরা ৮ জানুয়ারি জামিন পেয়েছেন।

Share this post

Join the conversation