দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা নিয়ে শঙ্কা
রোববার বিকালে ইজতেমায় বিদেশি কামরায় সা’দপন্থিদের ১০-১৫ জন দুটি বাসে করে বিদেশিদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন। তখন মাওলানা জোবায়েরপন্থি বিদেশি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাধা দিলে বিদেশিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় সা’দপন্থিদের সঙ্গে। একপর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এরপর সা’দপন্থিদের বাইরে পাঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রোববার ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু করতে ময়দানের সব ময়লা-আবর্জনা সরানোর কার্যক্রম শুরু করেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমাস্থলে আসা মুসল্লিরা ময়দান ত্যাগ করলেও এক হাজারের ওপর বিদেশি মুসল্লি এখনও ময়দানের নির্ধারিত স্থানে রয়ে গেছেন।
তবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মাওলানা সা’দপন্থি সদস্যরা। তারা অভিযোগ করছেন, মাওলানা জোবায়েরপন্থি সদস্যরা ইজতেমা চলাকালে হামলার শিকার হতে পারেন। ওই সূত্র জানিয়েছেন ভারতের দিল্লি মারকাজের সুরা সদস্য মাওলানা সা’দ আহমাদ কান্ধলভী ইজতেমা মাঠে আসবেন না।
তিনি না আসার কারণ হিসেবে জানতে চাইলে ওই পন্থি সদস্যরা জানান, তিনি ইজতেমা মাঠে এলে হামলার শিকার হতে পারেন, এই শঙ্কায় তিনি বাংলাদেশে আসবেন না। তবে আরও সময় আছে, যদি আসেন তবে ভালো হবে।
এদিকে রোববার বিকালে ইজতেমায় বিদেশি কামরায় সা’দপন্থিদের ১০-১৫ জন দুটি বাসে করে বিদেশিদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আসেন। তখন মাওলানা জোবায়েরপন্থি বিদেশি সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা বাধা দিলে বিদেশিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় সা’দপন্থিদের সঙ্গে। একপর্যায়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এরপর সা’দপন্থিদের বাইরে পাঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাবলিগ ও পুলিশ সূত্র রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা আনুষ্ঠানিক শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের দিল্লি মারকাজের সুরা সদস্য মাওলানা সা’দ আহমাদ কান্ধলভী পন্থি মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের অনুসারীদের। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ইজতেমা ময়দান সা’দপন্থি সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম।
গত রোববার রাতে ও গতকাল দুপুরে ইজতেমা ময়দানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, রোববার রাত ২টার দিকেও হাজার হাজার মুসল্লি ময়দানে অবস্থান করেছেন। তবে ছয় হাজারের অধিক বিদেশি মুসল্লিদের মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি মুসল্লি তাদের নির্ধারিত স্থানে থেকে গেছেন। তবে গতকাল সকাল ১০টার আগেই বেশিরভাগ মুসল্লি ময়দান ত্যাগ করেছেন।
গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছেন ১ হাজার ৩৯৩ জন বিদেশি মুসল্লি। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশীয় মুসল্লিদের খিত্তাগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। রোববার যেখানে মুসল্লিদের পদচারণে মুখর থাকলেও সেখানে এখন শুধু শুনশান নীরবতা।
চারপাশে ওপরে চটের তৈরি তাঁবু, আর নিচে ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব মাঠ। ডাস্টবিনগুলোতে মুসল্লিদের ফেলে যাওয়া ময়লা পচে দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি সকাল থেকে ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করলেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
