ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দর্শকের ভিড় বাড়ছে
দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সোমবার ছিল এই উৎসবের তৃতীয় দিন। রাজধানীর পাঁচটি ভেন্যুতে চলছে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। এদিন উৎসবের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে। অসংখ্য সিনেমাপ্রেমী ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের পদচারণে উৎসব জমজমাট থাকলেও সবার চোখ ছিল ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের দিকেই। নিজের নির্মিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এই অভিনেত্রী। এদিন বিকাল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে বাংলাদেশের ‘হাওয়া’ সিনেমা প্রদর্শনী হয় এবং অন্য হলে টালিউডের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এবং ছাদ’র প্রদর্শনী চলে।
ছবি দুটিতে বুঁদ থাকতে দেখা যায় দর্শকদের। শ্রীলেখাকে দেখতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, শ্রীলেখাকে বহুবার সিনেমায়-সিরিজে দেখেছি। তার বয়স যে এতটা সেটা আজও বুঝতে পারলাম না। আমার প্রিয় অভিনেত্রী বাংলাদেশে কিছু কাজ করুক সেটাই চাই। শুধু নাইমুর নন, সব বয়সি মানুষের ভিড় জমে শ্রীলেখা মিত্রকে দেখতে। পঞ্চাশ বছর বয়সি সুলতান চৌধুরীর মতে- শ্রীলেখা দুই বাংলারই।
প্রদর্শনী শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি হন শ্রীলেখা। সে সময় বাংলাদেশের মাটি, মানুষ ও সিনেমা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সেসব কথা বলতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেন শ্রীলেখা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আমার বাবার দেশ, তাই এটা আমারও দেশ। ফরিদপুর, মাদারীপুরের ঘটবাড়ী গ্রামে আমাদের জমিদার বাড়ি ছিল। আগে অনেকে যেমন পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসছেন। সেভাবেই আমার বাবারা ভারতে চলে যান। এর আগে আমি যখন বাংলাদেশে এসেছিলাম তখন বাবাকে সঙ্গে করে এসেছিলাম। গত বছর বাবা মারা গেছেন। এখানে এসে বাবাকে সত্যি ভীষণ মিস করছি।
কলকাতায় না হলেও বাংলাদেশে প্রদর্শিত হয় শ্রীলেখার ছবি। চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শেষে অভিনেত্রী বলেন, এতগুলো মানুষ চুপ হয়ে নিঃশব্দে আমার সিনেমাটি দেখেছে এটাই বড় সার্থকতা। এই যে সামনে দাঁড়িয়ে সিনেমা নিয়ে কথা বলছি, এটা জীবনের খাতায় লিখে রাখব। বাংলাদেশের সঙ্গে আমার কানেকশন আছে। আমার রুট বাংলাদেশ। এখানে এসে আজকে যতটা পেলাম সেটা কখনোই ভুলব না। সব মানুষই একা এমনটাই মনে করেন এই অভিনেত্রী। ভাবতে ভাবতেই বলেন, প্রত্যেকটা অভিনেতা-অভিনেত্রীই একা। আমাদের চারপাশে এত মানুষ তবুও একাকিত্ব। এটা হয়তো ‘গড গিফটেড’।
এদিন বাংলাদেশের সিনেমা ‘হাওয়া’র প্রদর্শনীতেও ছিল দর্শকদের ভালো সাড়া। পরিবারের সঙ্গে এই সিনেমা দেখতে এসে আবির হাসনাত বলেন, আমি এর আগেও ‘হাওয়া’ দেখেছি। মূলত গানের জন্যই এই সিনেমাটি দেখেছিলাম। এখন আবার এসেছি। নদী জীবনের এই গল্প আমাদের সবারই জানা উচিত, কারণ এগুলোই আমাদের শেকড়।
‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানকে সামনে রেখে নিয়মিত চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করে আসছে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি। বাংলাদেশি সিনেমা ‘জেকে-১৯৭১’ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠেছে। চলবে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত। উৎসবে ৭১টি দেশের ২৫২টি সিনেমা দেখানো হবে। উৎসবের ভেন্যু হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল ও সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও স্টার সিনেপ্লেক্স।

Join the conversation