01:55:45 pm
Tuesday, August 25

দুই বছর ধরে বাঁধের মাটি লুট খবর নেই পাউবোর

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধামশ্রেণি ইউনিয়নের টেংনাকুড়া খাল খননের মাটি যাচ্ছে ইটভাঁটা ও স্থাপনায় এবং লাখ লাখ টাকা যাচ্ছে মাটি বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী একটি চক্রের পকেটে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা খালের মাটি বিক্রি করে ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে খালের দুই ধার। ভরা বর্ষার সময় আবাদি জমিসহ ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন খালের দুই পাশের মানুষ। 

অভিযোগ উঠেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খননের কাজ করলেও এরপর কর্তৃপক্ষ আর খোঁজখবর নিতে আসেননি। আর এই সুযোগেই খালের দুই পাড়ের মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে উলিপুরে।

সরেজমিন দেখা যায়, দুটি স্পটে প্রায় ১০-১৫ জন শ্রমিক খালের দুই পাড়ের বাঁধ কাটছে আর সেই বাঁধের মাটি ট্রাক্টরে করে নিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির মহাজন। মাটি বিক্রির টাকা যাচ্ছে স্থানীয় ক্ষমতাধরদের পকেটে। খালের উত্তরের দীর্ঘ যে গড়টি, লম্বায় সেটি প্রায় তিন কিলোমিটার। ইতিমধ্যে এই তিন কিলোমিটারের মাটি পুরোটাই সরিয়ে ফেলেছে চক্রটি। এখন দক্ষিণ গড়ের মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই মাটি বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর মহলের সরকারি কর্মকর্তারা। খালের গড়ের পাশে জমির মালিকদের ম্যানেজ করে একটি চক্র শুরুতেই উপরিভাগের অংশ বিক্রি করেছে ইটভাঁটায়। এখন নিচের মাটি নিয়ে যাচ্ছে স্থাপনায়। যেভাবে দেদার গড়ের মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে ওপরের জমিগুলো আগামী বর্ষায় ভেঙে ভিটা, জমি সব হারাবে স্থানীয় জনসাধারণ।

এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল থেকে উলিপুরের ধামশ্রেণি ইউনিয়নের টেংনাকুড়া পর্যন্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার খাল খননের কাজটি শুরু করা হয়। দুটি দরপত্রের মাধ্যমে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। যার প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার খনন করা হয়েছে। কিন্তু পরে বাকি কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

কেন কাজটি আটকে গেল- এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষকের সঙ্গে খাল খননের বিষয়টি শেয়ার করতে গেলে তারা অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যার কারণে আর কাজটি করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, ১৫-২০ দিন আগে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছিল। আবার যেহেতু চালু হয়েছে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাব।

মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক্টর মালিক বলেন, আমরা ১০০ টাকায় প্রতি গাড়ি মাটি কিনে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। বাবু নামে এক ট্রাক্টরচালক জানান, জমির মালিকরা প্রথমে তাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করে। তারপর মাটি কেটে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেন।

মাহমুদুল হাসান সুজন ও আমিন উদ্দিন নামে দুই জমির মালিক জানান, এই গড়ের মাটি কাটার সুযোগ করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উত্তর গড়ের মাটি ভেকুওয়ালারা টাকা-পয়সা নিয়ে শুরুতেই জমির মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অন্যায় কাজটি করেছে। এরপর দক্ষিণ গড়ের মাটি বিক্রি শুরু হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুজন মাটি বিক্রেতা জানান, কিছু মাটি বিক্রি করছি, আর কিছু নিজেদের কাজেও ব্যবহার করছি। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লা আল মামুন জানান, মাটি কাটা বন্ধের ব্যবস্থা এখনই নিচ্ছি।

Share this post

Join the conversation