03:43:29 pm
Wednesday, August 26

চাহিদা বাড়ছে চুইঝালের

খুলনা অঞ্চলের জনপ্রিয় মসলা চুইঝাল। মাংসে বাড়তি স্বাদ যোগ করে এই মসলা। চুইঝালের সঙ্গে আস্ত রসুন দিয়ে গরু, খাসি কিংবা হাঁসের মাংস রান্না এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও এখন চুইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। 

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে আব্বাসের হোটেল চুইঝাল দিয়ে রান্না করা খাসির মাংসের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ খাবারের স্বাদ নিতে ছুটে আসেন মানুষ। চুইঝাল মাংস খুলনার চুকনগর, জিরোপয়েন্ট, সোনাডাঙ্গা ছাড়িয়ে এখন ঢাকায়ও প্রসার লাভ করেছে।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, চুই গাছ দেখতে অনেকটা পানের লতার মতো। এর পাতায় ঝাল নেই। এর শিকড়, কাণ্ড বা লতা কেটে টুকরো করে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পর কিছুটা গলে যাওয়া চুইয়ের টুকরো চুষে বা চিবিয়ে খাওয়া হয়। স্বাদের পাশাপাশি ঔষধিগুণ থাকায় দিন দিন চুইঝালের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মোছাদ্দেক আরও জানান, ছোট জায়গায় কম খরচে অধিক আয় হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে চুইয়ের। যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাতে ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক দুভাবেই এর চাষ বাড়ছে। ঘেরের আইলেও এর চাষ করছেন কেউ কেউ। হেক্টরপ্রতি এর ফলন ২ থেকে ৩ টন। ২ থেকে ৩ শতক জমিতে চুই লাগালে ৩-৪ বছরের মধ্যে ২-৩ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

মোছাদ্দেক আরও জানান, খুলনার পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলায় চুইয়ের চারা উৎপাদন হয়। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় নার্সারি। তিন মাসের মধ্যেই চুইচারা বিক্রি শুরু করা যায়। একেকটি চারা তৈরিতে খরচ হয় ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়। এক বিঘা জমিতে লাগানো যায় ৬০০-৭০০ চারা। হাজার পঞ্চাশেক টাকা খরচ করলে একজন চাষি দেড় লাখ টাকার মতো চারা বিক্রি করতে পারেন। আর চারা লাগানোর এক বছর পরই চুই থেকে আয় আসে।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বান্ধা এলাকার অশোক বৈরাগী জানান, ২০১২ সালের দিকে তিনিই প্রথম এ অঞ্চলে চুইগাছের ডগা কেটে মাটিতে লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদনে সফল হন। এখন প্রতি বছর চুইয়ের চারা ও চুই বিক্রি করে ৬-৭ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

অশোক বলেন, চুই সাধারণত ২ ধরনের হয়-ঝাড়চুই এবং গেছোচুই। চুইয়ের কাটিং যেকোনো হালকা উঁচু বা গাছের গোড়ায় রোপণ করা যায়। উঁচু জায়গায় চুইগাছ ভালো হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ও আশ্বিন-কার্তিকই চুইলতা লাগানোর উপযুক্ত সময়।

এ উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের নবদ্বীপ মল্লিক জানান, ২০১৬ সাল থেকে চুই নার্সারি করছেন তিনি। প্রতি বছর চুইয়ের চারা ও চুই বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আয় করছেন। 

বটিয়াঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুব্রত মণ্ডল জানান, গত বছর চুই বিক্রি করে তিনি ৫ লাখ টাকা আয় করেছিলেন। এ বছর ১০ লাখ টাকার চুই ৭ লাখ টাকার চুইয়ের চারা বিক্রি করেছেন। 

খুলনার কয়েকটি বাজার দেখা গেছে, প্রতি কেজি চুই মানভেদে ৩০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঈদের বাজারে এই দাম ২ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। 

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বর্তমানে চুইয়ের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। চাহিদা বাড়ায় অনলাইনেও এখন চুইঝাল বিক্রি করছেন কেউ কেউ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, খুলনার উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চুই বর্তমানে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য। ঔষধিগুণ থাকায় এর চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েই চলছে। সৃষ্টি হচ্ছে বাজার।

Share this post

Join the conversation