10:12:33 am
Sunday, June 21

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কৌশলী হবে আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। তবে বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। দলটির এমন দাবিতে অনড় থাকার মধ্যেই অতিসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্টমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করে গেলেন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। তবে বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। দলটির এমন দাবিতে অনড় থাকার মধ্যেই অতিসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্টমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। ঢাকায় এসে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বলেছেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। আর বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশ নেয় তার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ কৌশল প্রয়োগ করবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলটির নেতারা বলছেন, আমরা চাই, সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার ভেতরে আসা উচিত। এতে সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়বদ্ধতা আছে। বিএনপি চায় নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। আমরাও চাই। সেটা করার জন্য অবশ্যই আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করব। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করব। মানুষের আস্থা আসবে। নির্বাচনে কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করা হবে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সেভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। তবে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু আমরা চাই তারা নির্বাচনে আসুক। দেশে সাংবিধানিক কোনো সংকট তৈরি না হোক এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকে থাকুক। সে ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে প্রয়োজনে আলোচনা করা যেতে পারে। মার্কিন সহকারী মন্ত্রী ডোনাল্ড লুও বলেছেন, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেও সংলাপ হয়েছে। তাই বিএনপি চাইলে সংলাপ হতে পারে। আওয়ামী লীগ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সমাধান করতে চায়। 


আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। তবে তারা যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে, সেটি এদেশে আর কোনো দিন হবে না। কারণ আদালতের রায়ে ইতিমধ্যে এটি মীমাংসা হয়ে গেছে। তবে বিএনপি যদি মনে করে আলাপ-আলোচনায় বসবে, সেটি সম্ভব। কারণ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও দলীয়  সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসেছিলেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও ওই সংলাপে অংশ নিয়েছিল। ফলে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেও সংলাপ হতে পারে। তবে বিএনপি চায় কি না, সেটি বড় বিষয়। 

তারা বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল যেন অংশ নেয় সেই চেষ্টাই চালাবে আওয়ামী লীগ। সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। আগামী নির্বাচন যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেই চেষ্টাও করা হবে। ইতিমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গত ১৪ বছরের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বলেছেন। ফলে বিএনপিসহ অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। তবে বিএনপি না এলেও যে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তাও নয়। দলীয়ভাবে না এলেও তাদের একাংশ নির্বাচনে আসবে। এ ছাড়া তাদের যে জোট রয়েছে, সেখান থেকেও কেউ কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনতে হয়, সে কৌশল আমরা জানি। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলেও একটি অংশ শেষ পর্যন্ত তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে। ফলে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা প্রকাশ করছি না। এমনকি তারা যেসব জোট করছে, ওইসব জোট থেকে বেরিয়ে এসে কোনো কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেবে। ফলে বিএনপিকে নিয়ে ভাবছি না আমরা। আমরা ভাবছি, সংবিধান অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে কীভাবে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বীক্রম সময়ের আলোকে বলেন, আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এরই অংশ হিসেবে গত ১৪ বছরের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে বিএনপি এমন একটি দল তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। কিন্তু সে সুযোগ আর দেওয়া হবে না। তারা যদি আলোচনায় বসতে চায়, সেটার জন্য এখনও অনেক সময় আছে। বিএনপির জন্য আওয়ামী লীগ সবসময় সংলাপের দরজা খোলা রাখবে। যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ সবচেয়ে ভালো উপায়। আওয়ামী লীগ সবসময় সংলাপকে স্বাগত জানাবে। তবে সংবিধানের আলোকেই সবকিছু হতে হবে।


আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এ প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে বলেন, আমরা রাজনীতি করি। বিএনপিও রাজনীতি করে। তাই রাজনীতি করতে হলে গরম গরম কথা বলতে হয়। তবে আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি নেবে না, তা আলাপ-আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। বিএনপি যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে, সেটি আমরা জানি। তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মিছিল, মিটিং ও সেমিনার করছে। এটা রাজনীতির ভালো দিক। কিন্তু তারা যদি সন্ত্রাস, বোমাবাজি ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, সেটি আমরা টলারেট করব না। বিএনপি যদি মনে করে সংলাপ হওয়া প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে হতে পারে। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে আসবে না বলছে, এটা মামার বাড়ির আবদার। তারা নির্বাচনে না এলে কিছু বলার নেই। তবে তারা না এলেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু তাদের সঙ্গে সংলাপ হবে কি হবে না, সেটা নিয়ে এখনই আমরা ভাবছি না। সেটা সময় বলে দেবে। কিন্তু আমরা চাই দেশে যেন কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি না হয়।