12:53:08 pm
Sunday, June 21

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু আইন পরিপালন নিশ্চিত করা আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু আইন পরিপালন নিশ্চিত করা আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে দেশের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধপ্রবণ পুলিশ সদস্যের কারণে পুলিশের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার সময়ের আলোতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানায় তিন দিন আটকে রেখে পুলিশের নির্যাতনের পর রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে বিট কয়েন দিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে শনিবার রাতে রবিউল ইসলামসহ চারজনকে আটক করেন বাসন থানার এএসআই মাহবুব ও নূরুল ইসলাম। পরদিন আটকদের মধ্যে তিনজনকে ছেড়ে দিলেও ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে থানায় আটকে রাখা হয়।


নিহতের প্রতিবেশী শাকিল মিয়া জানান, শনিবার রবিউলকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে রবিউলের পরিবারের কাছে পুলিশ ১ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু রবিউলের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা পুলিশকে টাকা দিতে পারেনি। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে পুলিশ রবিউলের স্ত্রী নূপুরকে বাসা থেকে তুলে নেয়, পরে থানায় যাওয়ার পথে রাস্তায় এএসআই মাহবুব গাড়িতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে বাসায় চলে যেতে বলে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বাসন থানা থেকে মোবাইল ফোনে নূপুর আক্তারকে জানানো হয় তার স্বামী রবিউল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। পরে তিনি ওই হাসপাতালে গিয়ে রবিউলকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। রবিউলের স্ত্রী নূপুর জানান, পুলিশ তার স্বামীকে থানা হেফাজতে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ হাসপাতালেও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

বাসন থানার ওসি মালেক খসরু খান জানান, একটি গুজবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা রাস্তায় ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করছে। অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে রবিউল ইসলামকে মঙ্গলবার আটক করা হয়েছিল। তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এদিকে রবিউলের মৃত্যুর খবরের প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।


এ ঘটনায় পুলিশের ২ এএসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য বিভাগীয় শাস্তির বিধান আছে। শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে। এরপরও থামছে না অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের অপকর্ম। পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার উল্টো চিত্র। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধেও দেওয়া হয় লঘু দণ্ড। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধ করেও শাস্তি পেতে হয় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তির নামে যেসব শাস্তি দেওয়া হয়, বিশেষজ্ঞদের মতে তা আসলে কোনো ধরনের শাস্তিই নয়। এ ছাড়া পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ ওই মামলার তদন্তেও থাকেন একজন পুুলিশ সদস্য।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে আলাদা কমিশন করে তার বিচার করা হয়। বাংলাদেশেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন বা নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন কমিশন গঠনের ব্যাপারে মত দিয়েছেন তারা। এতে অপরাধ অনেকাংশে কমবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


পুলিশ সাধারণ মানুষের বন্ধু। এই কথাটাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। জনমনে পুলিশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক মনোভাব আছে সেটা দূর করতে হবে। সে উদ্দেশ্যে সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি জনগণ যাতে পুলিশকে সত্যিকারের বন্ধু মনে করে সে জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি। পুলিশের অনেক সুনাম রয়েছে। পুলিশের হাজারো ভালো কাজের দ্বারা অর্জিত সম্মান কিছু লোকের অসাধুতার জন্য নষ্ট হোক সেটা কাম্য নয়। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।