10:15:13 am
Sunday, June 21

বিএনপি-জামায়াতের ১৮ নেতাকর্মীসহ ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুর মহানগরীর বাসন ভোগড়া বাইপাস এলাকায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী মৃত্যুর অভিযোগে দুটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় নিহতের পরিচিতজন ও স্থানীয়রা।

গাজীপুর মহানগরীর বাসন ভোগড়া বাইপাস এলাকায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী মৃত্যুর অভিযোগে দুটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় নিহতের পরিচিতজন ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরও অজ্ঞাত ৬০০ জনকে আসামি করা হয়। গত ১৯ জানুয়ারি রাতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হানিফ মাহমুদ বাদী হয়ে মামলা দুটি করলেও বিষয়টি গোপন রেখেছিল পুলিশ।
মামলায় আসামিরা হলেন-গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির মো. খাইরুল ইসলাম, সদর থানা জামায়াতের আমির হোসেন আলী, জামায়াতের সদস্য ওমর ফারুক। মামলায় এজাহারভুক্ত বিএনপির নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বশির আহমেদ বাচ্চু, বাসন থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, বর্তমান আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর সিরাজ, সদস্য নাসির উদ্দিন, মো. নুরুজ্জামান ওরফে জামান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মান্নান, মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজি শহিদুল ইসলাম, বাসন থানা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত বাবু, সদস্য সচিব নাহিদ চৌধুরী ও বাসন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লুৎফর।
মামলায় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে মহাসড়কের ওপর অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জন উত্তেজিত জনতা বাসন থানার পেয়ারাবাগন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভসহ মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা সাধারণ জনগণ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে মিশে সরকার পতন ঘটানোসহ সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোরএরপর চেষ্টা করে। এ ছাড়া সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা ও সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে সরকারি সম্পদ, ব্যক্তিগত সম্পদ ও জানমালের ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগ করে। তারা সাধারণ জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে। এ ছাড়া হাতে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল, পাথর নিয়ে জনগণের মধ্যে অবস্থান করে।
পরবর্তীতে উত্তেজিত আশ্বস্ত করে মহাসড়ক থেকে তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু উল্লেখিত জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর আরও চড়াও হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে না পারায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত হয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। জামায়াত-বিএনপির প্ররোচনায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশে কথা না শুনে অতর্কিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। ঘটনাস্থলে সরকারি সম্পদ এবং ব্যক্তিগত সম্পদ ও জনগণের জনসাধারণের চলাচলের সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে এবং পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে গালাগাল করতে থাকে। পরে অজ্ঞাতনামা আসামিদেরকে গালাগাল না করার জন্য অনুরোধ করলে তারা পুলিশের কথা অমান্য করে আরও ক্ষিপ্ত হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করে অপরাধমূলক বল প্রয়োগের মাধ্যমে পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল পাথর ছুড়তে থাকে। তাদের সঙ্গে থাকা ডিজেল দ্বারা অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। তাদের ছোড়া ইটপাথরের আঘাতে এবং অগ্নিসংযোগের ফলে ঘটনাস্থলে ডিউটিরত গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আলমগীর হোসেন, এসআই মতিউজ্জামান, কনস্টেবল রাজীব হোসেন, মো. শামীম গুরুতর আহত হয়।
একপর্যায়ে আসামিরা বগুড়া বাইপাস ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে রাখা পুলিশের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তারা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ট্রাফিক পুলিশ বক্সের আলমারিতে থাকা ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল দস্তাবেজ ও ট্রাফিক কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান সরকারি মালামাল পুড়িয়ে দেয়। তখন সরকারি মালামাল নথি এবং জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই স্থানে ডিউটিরত বাসন থানা পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
ওই ঘটনায় উল্লেখ করে গাজীপুরের বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হানিফ মাহমুদ বাদী হয়ে আত্মঘাতীমূলক কার্যকলাপ সম্পাদন করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ধ্বংস করাসহ মহাসড়কে চলাচল যানবাহন অগ্নিসংযোগম ভাঙচুর ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ এনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনাম আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামি ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।এ ছাড়া উপ-পরিদর্শক মো. হানিফ মাহমুদ একই দিনে বাদী হয়ে বাসন থানায় আরেকটি মামলা করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, বেআইন জনতা বদ্ধে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে স্বেচ্ছাকৃতভাবে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুরুত্ব আঘাতপ্রাপ্ত করে এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধন করার অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় চারজনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় নামীয় আসামি করা হয়েছে ১৮ জনকে। এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মো. হানিফ মাহমুদ বলেন, কোন ধারায় বা কোন অপরাধে মামলা করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। আপনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিন।
উল্লেখ্য, অনলাইন জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে সুতা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে (৪৫) গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার পুলিশ তার বাসা থেকে ১৪ জানুয়ারি তুলে নিয়ে যায়। ১৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার মধ্যরাতে পুলিশের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী নুপুর বেগমকে জানানো হয়, রবিউল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তবে এলাকাবাসী পুলিশের এই ভাষ্য মেনে নেয়নি। পুলিশের নির্যাতনে ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে বুধবার সকালে দুই মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় এলাকাবাসী ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর ও চারটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ধাওয়া দিয়ে রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের আবদুল বাকির ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৫) গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাস পেয়ারাবাগান এলাকায় ভাড়া থেকে সুতার ব্যবসা করতেন। তাকে গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামে জানাজা শেষে ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দাফন করা হয়।