03:58:14 pm
Tuesday, August 25

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : সম্ভাবনা ও সংকট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে চলতি বছর ৩০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে বিশ্বের শীর্ষ চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু চিপ উৎপাদনে এই বাজেট। এ ছাড়াও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং এআই নিয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রতিটি টেক জায়েন্ট প্রতিষ্ঠানের। রাষ্ট্রীয়ভাবেও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হচ্ছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের জন্য। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর অধিকাংশ কাজ এবং সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে এআই। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে এআইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশও। যদিও বাস্তবিকভাবে বড় পরিসরে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসেনি বড় কোনো শিল্প। কিন্তু প্রকৌশলবিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ ও প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজের আহ্বান জানানো হয়েছে আইসিটি বিভাগ থেকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যেমন সম্ভাবনাময় মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা, ঠিক একইভাবে এটিকে সংকট হিসেবেও মনে করছেন অনেকে। বর্তমান দুনিয়ায় কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই। যেসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে-আধুনিক কৃষিতে, চিকিৎসাবিদ্যায় রোগ নির্ণয়, স্টক মার্কেটের শেয়ার লেনদেন, রোবট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে, আইনি সমস্যার সঠিক সমাধান, বিমান চালনায়, যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনায়, ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায়, ডিজাইন তৈরি, সাইবার নিরাপত্তার জন্য, ভিডিও গেমসে, স্মার্ট গাড়ি, মেল স্প্যাম ফিল্টার করতে, উবারে ভ্রমণের দাম নির্ধারণ করতে, ডাটা সেন্টার ম্যানেজমেন্টে, জিনোমিক্স/সিকোয়েন্সিংয়েসহ এমন অসংখ্য স্থান রয়েছে। গুগল ও ফেসবুক পাল্লা দিয়ে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে নিজ নিজ এআই ব্যবস্থাপনার। সামনে মেটা জগতে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি এআই ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ব্রিটেন প্রতিরক্ষা খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার প্রযুক্তিতে বাজেট বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সনাতনী যুদ্ধাস্ত্র ও সৈন্য সংখ্যার পেছনে ব্যয় বরাদ্দ কমিয়েছে। একই অবস্থা সামরিকভাবে শক্তিশালী সব দেশ। সনাতনী পদ্ধতিতে এখনও যারা এগিয়ে আছেন, তারা যে শুধু একটি সংখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়, সম্প্রতি বিষয়টি প্রমাণ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি ঘটনা। ফেস রিকগনিশন এআই ব্যবহার করে মার্কিন ড্রোন হামলা, সিরিয়ায় আইএসআইয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ২৪ ঘণ্টার বিমান হামলায় রাশিয়া বাশার আল আসাদের হাতে পুনরায় দেশটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে রাশিয়া ও চীনের এগিয়ে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা রেখেছে সামরিক ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যতটা এগিয়ে গেছে ব্রিটেন তার ২০২১ সালে ঘোষিত এআই খাতে বাজেট বাড়িয়েও সেই অবস্থা তৈরি করতে আরও ২০ বছর সময় লাগবে।
বিবিসি তার প্রতিবেদনে জানায়, সম্মুখ যুদ্ধের সময় পার করে এসেছে বিশ্ব। কেননা এখন আপনার সামনে না দাঁড়িয়ে থেকেও পৃথিবীর অন্যপ্রান্ত থেকে আপনার ওপর নিখুঁতভাবে হামলা চালানো সম্ভব। সেই সঙ্গে কল্পকাহিনির মতো রোবটনির্ভর যুদ্ধের কথাও বলছেন অনেকে। বলা হচ্ছে, রোবট যদি যুদ্ধের সব নীতি মেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়, তাহলে সম্মুখ যুদ্ধে যে ধরনের নৃশংসতা হয়, তা আর হবে না। কিন্তু এসব যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের ইতিবাচক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, এআই যুদ্ধক্ষেত্রে আরও নির্ভুল ও নিখুঁত হামলার সুযোগ তৈরি করে। ফলে হত্যা করার বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। সম্প্রতি জাতিসংঘে একদল বিশেষজ্ঞ যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার না করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।


ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাংকিং এবং ফিন্যান্সসহ প্রায় প্রতিটি শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকিং অ্যাপস এবং পরিষেবাগুলোতে এআইয়ের প্রবর্তন এই খাতটিকে আরও গ্রাহককেন্দ্রিক এবং প্রযুক্তিগতভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
এআইভিত্তিক সিস্টেমগুলো ব্যাংকগুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং বৃহৎ পরিসরে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে খরচ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়াও বুদ্ধিমান অ্যালগরিদম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জালিয়াতি তথ্য শনাক্ত করতে সক্ষম।
বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যাংক তাদের সেক্টরে এআই যে সম্ভাব্য সুবিধাগুলো উপস্থাপন করে সে সম্পর্কে সচেতন। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০২৩ সালের মধ্যে এআই ব্যবহার করে ব্যাংকগুলো ৪৪৭ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করবে। এই সংখ্যাগুলো নির্দেশ করে যে ব্যাংক এবং ফিন্যান্স সেক্টর দক্ষতা, পরিষেবা, উৎপাদনশীলতা উন্নত করতে এবং খরচ কমাতে দ্রুত এআইয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।সাইবার নিরাপত্তা এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণ : প্রতিদিন, বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল লেনদেন সংঘটিত হয়। ব্যবহারকারীরা বিল পরিশোধ, অর্থ উত্তোলন, চেক জমা দেয় এবং অ্যাপ বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও অনেক কিছু করে। এভাবে ব্যাংকিং সেক্টরের সাইবার নিরাপত্তা এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের প্রচেষ্টা বৃদ্ধির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এআই ব্যাংকগুলোকে অনলাইন ফাইন্যান্সের নিরাপত্তা উন্নত করতে তাদের সিস্টেমের ত্রুটিগুলো ট্র্যাক করতে এবং ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। মেশিন লার্নিংয়ের সঙ্গে এআই সহজেই প্রতারণামূলক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে এবং গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যাংককে সতর্ক করতে পারে।


ঋণ এবং ক্রেডিট সিদ্ধান্ত: ব্যাংকগুলো আরও তথ্যপূর্ণ, নিরাপদ এবং লাভজনক ঋণ এবং ক্রেডিট সিদ্ধান্ত নিতে এআইভিত্তিক সিস্টেমগুলো অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করেছে। বর্তমানে অনেক ব্যাংক ক্রেডিট ইতিহাস, ক্রেডিট স্কোর এবং গ্রাহকের রেফারেন্স ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিটযোগ্যতা নির্ধারণ করে থাকে। যাই হোক, কেউ অস্বীকার করতে পারে না যে এই ক্রেডিট রিপোর্টিং সিস্টেমগুলো প্রায়শই ত্রুটিপূর্ণ, বাস্তব বিশ্বের লেনদেনের ইতিহাস অনুপস্থিত এবং পাওনাদারদের ভুল শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। একটি এআইভিত্তিক ঋণ এবং ক্রেডিট সিস্টেম সীমিত ক্রেডিট ইতিহাসসহ গ্রাহকদের আচরণ এবং ধরনগুলো তাদের ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারে। এ ছাড়াও সিস্টেমটি নির্দিষ্ট আচরণ সম্পর্কে ব্যাংককে সতর্ক বার্তা পাঠায় যা ডিফল্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। সংক্ষেপে এ ধরনের প্রযুক্তি ভোক্তা ঋণের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়াও বাজারের প্রবণতা ট্র্যাকিং, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ, গ্রাহক অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আনুমানিক বিশ্লেষণ, প্রক্রিয়া অটোমেশনসহ ব্যাংকের অটোবট মেসেজ তৈরি ও মেসেজের প্রতিউত্তর দিতে সক্ষম।


কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়ে উঠেছে শিক্ষা এবং আধুনিক কৃষি ক্ষেত্রের অপরিহার্য অংশ। ইতিমধ্যে কৃষিতেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে কৃষিতে এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মদিনা টেক লিমিটেডের নেতৃত্ব একদল তরুণ আইটি ইঞ্জিনিয়ার ও কৃষিবিদরা যুগান্তকারী ‘ডা. চাষি’ অ্যাপ তৈরি করেছেন। এ অ্যাপ দিয়ে ছাদবাগান এবং মাঠ ফসলের রোগ ও পোকামাকড়ের সঠিক তথ্য ও সমাধান করা যায়। এ অ্যাপ দিয়ে ফসলের আক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব হলে ‘ডা. চাষি’ বলে দেবে ফসলের সমস্যা ও সমাধান। ইতিমধ্যে ‘ডা. চাষি’ অ্যাপ তৈরির জন্য বেসিসের আইসিটি চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড ২০২২ লাভ করেছে মদিনা টেক লিমিটেড।


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, নেদারল্যান্ডসের টুয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র যৌথভাবে ‘স্টারস’ প্রকল্পের আওতায় দেশের কৃষি গবেষণায় আধুনিক, উন্নত ও কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষিতে প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন অর্থাৎ ড্রোনের সঙ্গে এআই কাস্টমাইজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ইন্টিগ্রেট করলে ড্রোন ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ওই এলাকার যে সার্বিক অবস্থা জানান দিতে সক্ষম সেগুলো হলো-
ফসলের মাঠের আর্দ্রতা পরিমাপ করা, ফসলে উপাদানের উপস্থিতি নির্ধারণ করা, শস্য রোপণ ডিজাইন করা, বীজ রোপণ করা, পোকার আক্রমণ জানা (ইমেজ প্রযুক্তি), কীটনাশক স্প্রে করা, সেচ মনিটরিং করা, ফসলের উৎপাদন জানা, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করা, মাটির নিউট্রেন্ট, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা জানা, ফসলের নিউট্রেন্টের অভাব জানা, ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা এবং তার সমাধান দেওয়া, কৃষি ওয়েদার ফোরকাস্টিং অ্যান্ড আগাম অ্যালার্মিং দেওয়া, কৃষি কলসেন্টার সেবা দেওয়া, সর্বোপরি কৃষিপণ্যের বাজারদর জানা। স্মার্ট ফারমিং/কৃষিতে ডিজিটালাইজেশন, আগামীতে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই প্রযুক্তি) সম্প্রসারণ ঘটিয়ে কৃষিকে সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময়।


শিল্প ও বাণিজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তাদের ব্যবসায় উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। বিমা সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা পোর্চ প্লাসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেমস মুর বলেন, গত কয়েক বছর ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা সমাধান করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কোভিড পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় তা প্রমাণ হয়ে গেছে। সাধারণ কাজগুলো এখন স্মার্ট এআই সফটওয়্যার এবং সিস্টেমের সাহায্যেই সেরে ফেলা যেতে পারে।ওয়াটারড্রপ নামক এক খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা টমাস হেনরি মারে মনে করেন টেক্সট, ইমেজ, অডিও এবং ভিডিও কনটেন্ট তৈরির জন্য এআই ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক নতুন টুল, কোম্পানি এবং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হবে যাতে পরিষেবার সামগ্রিক গুণমান এবং গতি বৃদ্ধি পাবে।


সৃজনশীল শিল্প ও লেখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মিডিয়া ক্ষেত্রেও দাপিয়ে বেড়াতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনই মনে করছেন মাই মিলেনিয়াল গাইডের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান মেইগস। তিনি জানান, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং মেশিন লার্নিংয়ের দ্রুত অগ্রগতি ব্যবসাগুলো কীভাবে কাজ করে এবং শিল্পগুলোকে পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার আশা, প্রযুক্তিগুলো আরও পরিশীলিত হয়ে সংস্থাগুলোকে তাদের দক্ষতা বাড়াতে এবং অধিক মুনাফা অর্জনে সাহায্য করবে।
সেই সঙ্গে সম্প্রতি এআইয়ের আঁকা চিত্রকর্ম, ডিজাইন, লেখা-সবকিছুই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে প্রমোশনাল ছোট ভিডিও তৈরি। বিশেষত অ্যানিমেটেড ভিডিও তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এআই।
এআই ব্যবহার যেমন মানুষের কাজকে সহজ করেছে তেমনিভাবে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে কর্মসংস্থানকে। যেই সময়ে একজন মানুষ কোনো কপি এডিট করতে পারবে, সেই একই সময়ে কমপক্ষে তিনটি কপি এডিট করতে সক্ষম হবে এআই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি আরও শতগুণ বেশি। যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের দখলে গেলে চাকরি হারাবে বিশ্বের বড় অংশের জনসংখ্যা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে মনে করা হচ্ছে এই বিষয়টিকে। যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতি দেশগুলোতে।

Share this post

Join the conversation