জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহে ওষুধ পাবে ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু
প্রথম ধাপে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ২৭তম ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ’। ১০ দিনের এই কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সারা দেশে একযোগে চলবে আগামী ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত।
প্রথম ধাপে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ২৭তম ‘জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ’। ১০ দিনের এই কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সারা দেশে একযোগে চলবে আগামী ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সময় প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশের ৪৪টি জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যে ৫-১৬ বছর বয়সি শিশুদের জন্য কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে অধিদফতর। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৪৪টি জেলায় প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ৫-১১ বছর বয়সি সব শিশুকে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির মাধ্যমে ১২-১৬ বছর বয়সি সব শিশুকে ১ ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ (মেবেন্ডাজল বা ভারমক্স ৫০০ মি.গ্রা.) ভরা পেটে সেবন করানো হবে।
কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম উদযাপন করার লক্ষ্য-সব শিশুকে এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ বিনামূল্যে সেবন করানো। একই সঙ্গে কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধকল্পে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সারা দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (সরকারি, বেসরকারি, ফরমাল, নন-ফরমাল স্কুল, মাদরাসা, মক্তব) এবং প্রায় ৩৩ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের (বিদ্যালয়, মাদরাসা) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত। শিশুদের মাঝে ওষুধ সেবনের হার প্রত্যেক রাউন্ডেই ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ রয়েছে। এই কৃমিনাশক ওষুধের ফলে শিশুদের মল পরীক্ষায় কৃমির উপস্থিতি ৮০ শতাংশ (২০০৫) থেকে ৭.৯৫ শতাংশে (২০১৮-১৯) নেমে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত তথ্য মতে, কৃমির সংক্রমণ বয়স্ক মানুষের চেয়ে শিশুদের মধ্যে বেশি। শূন্য থেকে ৪ বছর বয়সিদের ৭ শতাংশ, ৫-১৪ বছর ৩২ শতাংশ, ১৫-২৪ বছর ১৫ শতাংশ, ২৫-৪৪ বছর ৭ শতাংশ, ৪৫-৫৪ বছর ৫ শতাংশ এবং ৫৫ বছরের অধিক বয়সি মানুষের মধ্যে ৪ শতাংশ। এই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিশুদের মাঝে এই কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
