শনিবার বিকেল নিয়ে ফারুকির স্ট্যাটাস: আমি এখন একটু ঘুমাবো
মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী আরও লেখেন, আমরা বাঁচি আর কয় দিন। কাজের সময় খুব কম। এইভাবে তা অপচয়ের কোনো মানে নাই। সবাই ভালো থাকবেন। আমি এখন একটু ঘুমাবো!’
দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান, অবশেষে মুক্তির অনুমতি পেল পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’। প্রায় চার বছর বাংলাদেশ সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা সিনেমাটি এবার প্রেক্ষাগৃহে দেখানোয় আর বাধা রইল না। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার গল্পের প্রেক্ষাপটে তৈরি ‘শনিবার বিকেল’।
শনিবার এই খবর পাওয়ার পর পরিচালক লেখেন, ‘কেমন অনুভুতি হয় যখন আপনি দেখেন সারা দুনিয়া ছুটে চলেছে আর আপনি একাই থেমে? ভীষণ অপ্রয়োজনীয় লাগে নিজেরে! এই কয় বছর তাই লাগছিল! বাইরে থেকে কি মনে হয় জানিনা, ভেতরে ভেতরে শিল্পীদের মতো একাকী মানুষ আর কেউ নাই! গত চারবছর ধরে শনিবার বিকেল নিয়ে যখন স্ট্রাগল করছিলাম, তখন নিজেরে অদরকারী ভাবার সাথে যে অনুভুতিটা আমাকে গ্রাস করতো সেটা হলো একাকীত্ব। কিন্তু এই কয় মাস শনিবার বিকেলের মুক্তির দাবিতে ফিল্ম অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের কলিগ, আমাদের দর্শক ভাই-বোন, এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ যেভাবে কন্ঠ উঁচু করেছেন, তাতে আমি আর একা বোধ করি নাই। মনে হয়েছে আমি অনেকের সাথে আছি, মাঝে আছি। আপনাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ছবিটার মুক্তির জন্য নেপথ্যে যে ভাই-বোনেরা কাজ করেছেন তাদের সবাইকে সালাম। পত্র-পত্রিকা, ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
মোস্তাফা সরয়ার ফারুকী আরও লেখেন, ‘আপনাদের মতো আমিও পত্রিকা মারফত জেনেছি, আপীল বোর্ড শনিবার বিকেল ছবিটা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনারা হয়তো উনাদের ছোট কিছু অবজারভেশন জানাবেন যেটা ডিটেইল এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না। আমরা আশা করি উনারা দ্রুতই আমাদের এই বিষয়ে চিঠি দিবেন যাতে আগামী শুক্রবার বা তার পরের শুক্রবার ছবিটা মুক্তি পায়। মোট কথা ফারাজের সাথে বা আগেই ছবিটা মুক্তির ব্যবস্থা করবো। এই সুযোগে আমি আপীল বিভাগের বিজ্ঞ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। শেষে একটা কথা বলতে চাই, আমার মতো এই অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যেনো কোনো ফিল্মমেকার না যায়। আমরা বাঁচি আর কয় দিন। কাজের সময় খুব কম। এইভাবে তা অপচয়ের কোনো মানে নাই। সবাই ভালো থাকবেন। আমি এখন একটু ঘুমাবো!’
