03:09:46 pm
Sunday, June 21

৩ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার

দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককে নিয়ে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় তার কার্যালয়ের শাপলা হলে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর পর করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন ডিসিরা।

দেশের ৬৪ জেলা প্রশাসককে নিয়ে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় তার কার্যালয়ের শাপলা হলে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এর পর করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন ডিসিরা।
সম্মেলন থেকে ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। ডিসিরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক কার্য অধিবেশন হবে।
সরকারের নীতিনির্ধারক এবং জেলা প্রশাসকদের সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গতবার করোনার কারণে ভার্চুয়ালি সম্মেলন উদ্বোধন করেছিলেন সরকারপ্রধান। এ বছর ডিসি সম্মেলনে ২৬টি অধিবেশন হবে। সম্মেলনে মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কার্য অধিবেশনে অংশ নেবে। এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব ২৩টি থাকছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী, যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণরোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
আগামী বছরের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ব্যতিক্রম না হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এটিই শেষ ডিসি সম্মেলন। তাই এ সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী ও সচিবরা সরাসরি উপস্থিত থেকে ডিসিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ডিসিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এতে উপস্থিত থাকবেন বিভাগীয় কমিশনারাও।
উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চেয়ারম্যান করা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ করাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে ২৪৫টি প্রস্তাব এসেছে ডিসিদের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন এবং সড়ক পরিবহন আইনের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা, কক্সবাজারে বিশেষায়িত মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষার্থী কম এমন বিদ্যালয় বিলুপ্ত করে এর পাশের বিদ্যালয়ের সঙ্গে একত্রীকরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে পোষ্য কোটা বাতিল, স্কুল ফিডিং প্রকল্প গ্রহণসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলাদা আলাদা প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। সম্মেলনে তিন দিনে ২৬টি অধিবেশনে এসব প্রস্তাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডিসি সম্মেলনকে সামনে রেখে ডিসিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব আসার পরে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক প্রস্তাবের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হয়। আবার অনেক সিদ্ধান্ত মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। অনেক প্রস্তাব বাদও হয়ে যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দেশে অতীতের সব নির্বাচনেই প্রশাসন সহযোগিতা করেছে, এবারও তাদের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বলেন, নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য আমাদের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা আছে। সেই ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতাকে আমরা কাজে লাগাব। আমরা নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।
গত বছর ডিসি সম্মেলনে নেওয়া ২৪২টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ১৭৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে আর ৬৬টি প্রস্তাব বাস্তবায়নাধীন  উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মেলনের প্রথম দিন তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মুক্ত আলোচনা শেষে তার সঙ্গে ছবি তুলবেন ডিসিরা। সেদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেবেন তারা। ডিসিরা জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন এবং নৈশভোজে অংশ নেবেন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। সম্মেলনের শেষ দিন বঙ্গবভনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষৎ করে ডিসিরা তার নির্দেশনা গ্রহণ করবেন।  
ডিসি সম্মেলন সাধারণত বছরের মাঝামাঝি সময়ে হতো। করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে সম্মেলন হয়নি। গত বছরের সম্মেলন হয়েছে জানুয়ারি মাসে। এবারও বছরের শুরুতে ডিসি সম্মেলন হচ্ছে। এখন থেকে শীতকালেই সম্মেলন অনুষ্ঠানের রীতি প্রচলন থাকবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্টরা।