01:26:23 pm
Sunday, June 21

পুরোনো ইভিএমে নতুন পরিকল্পনা

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ২ লাখ মেশিন কেনার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ইসি।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ২ লাখ মেশিন কেনার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ইসি। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আর্থিক সংকট বিবেচনায় এ প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফলে পুরোনো ইভিএমেই নতুন পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ইসির হাতে থাকা দেড় লাখ ইভিএমের কোয়ালিটি চেক করতে শুরু করেছে সংস্থাটি, ১০টি অঞ্চলের কোয়ালিটি পরীক্ষা শেষ হবে আগামী মার্চে। এরপরই বোঝা যাবে ঠিক কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে পারবে কমিশন।

ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান সময়ের আলোকে বলেন, আমাদের হাতে এ মুহূর্তে দেড় লাখ ইভিএম আছে। এর মধ্যে কিছু ইভিএম নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর কিউসি করার জন্য বিএমটিএফের (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) কাছে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে ঠিক হয়ে আসার পরই আমরা বলতে পারব কতগুলো ইভিএম ব্যবহার করার যোগ্য। এরপর তা কমিশনকে জানাব। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন ঠিক কতটি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমাদের ১০টি অঞ্চলের পাঁচটিতে কিউসি করার জন্য বিএমটিএফে পাঠিয়েছি। অঞ্চলগুলো হচ্ছেÑরংপুর, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর। বিএমটিএফে ১০-১৫ হাজার ইভিএম কিউসি করা হতে পারে। এরপর বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও যশোর অঞ্চলের ইভিএমের কিউসি বা পরীক্ষা করে দেখা হবে। সব মিলিয়ে মার্চ মাসের মধ্যে কিউসি করা শেষ হবে বলে আশা করছি। আমাদের কাছে থাকা ইভিএমগুলো ভালো নেই। কিছু বাদ যাবে আবার কিছু কাস্টমাইজেশনের জন্য রাখতে হবে। সুতরাং দেড় লাখ ইভিএমই যে ভোটে ব্যবহার করা যাবে এটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ইসির হাতে ব্যবহারযোগ্য যেসব ইভিএম রয়েছে সেগুলো দিয়ে ৫০-৬০ আসনে ভোটগ্রহণ সম্ভব। 

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে কত আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে সেই সিদ্ধান্ত আগামী মাসে আসতে পারে। তবে ১০ অঞ্চলের কিইউসি হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

গত বছরের অক্টোবরে ১৫০ আসনে ইভিএম ভোট করার লক্ষ্যে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ইভিএম ক্রয় ও ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাব পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা এবং ইভিএম প্রকল্প পাশের অপেক্ষা। 

সব শেষ সোমবার দুপুরে ইসি সচিব জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতি আর আর্থিক সংকট বিবেচনায় ২ লাখ ইভিএম কেনার নতুন প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। আমরা পরিকল্পনা কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত পেয়েছি। এ মুহূর্তে প্রকল্পটি তারা প্রক্রিয়াকরণ করছে না। বাতিলও হচ্ছে না, তবে এ মুহূর্তে হচ্ছে না। তবে ইসির হাতে এ মুহূর্তে যে ইভিএম আছে, তা দিয়ে ৫০-৬০টি আসনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে যতগুলো কার্যক্ষম ইভিএম আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করব, এ লক্ষ্যে মজুদ থাকা ইভিএমের কোয়ালিটি চেক করা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সবকিছুই রোডম্যাপ অনুযায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইভিএম কেনার নতুন প্রকল্প স্থগিত হওয়ায় প্রায় ২৫০ আসনে কাগজের ব্যালটে ভোট হতে পারে। এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাকি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সিদ্ধান্ত কবে পাওয়া যাবে, সে জন্য অপেক্ষা করছে ইসি সচিবালয়। ব্যালটে ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করা হয়েছে। ৩ লাখ ২ হাজার ব্যালট বাক্স ব্যবহার উপযোগী পাওয়া গেছে। বেশ কিছু ব্যালট বাক্স ভেঙে গেছে। যা আছে তা দিয়ে ৩০০ আসনেই ব্যালটে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে।

ইসি সূত্রে জানা যায়, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশে ভোটকেন্দ্র ছিল ৪০ হাজার ১৮৩টি। ভোটকক্ষ ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৩১২টি। এ ছাড়া ইভিএমে ভোট নিতে প্রতি ভোটকক্ষের জন্য একটি ইভিএম প্রয়োজন হয়। যান্ত্রিক ত্রুটি বিবেচনায় রেখে প্রতি কেন্দ্রের জন্য মোট কক্ষের অর্ধেক সংখ্যক ইভিএম অতিরিক্ত সংরক্ষণ করা হয়। তাই ইসির হাতে যেসব ইভিএম আছে তা দিয়ে ৫০-৬০ আসনে ভোট করা সম্ভব হবে। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, আমার জানা মতে, ইসির হাতে যে ইভিএম আছে তা দিয়ে ৬০-৭০ আসনে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়।