07:13:00 pm
Tuesday, August 25

গরহাজিরের তালিকা করছে বিএনপি

রাজপথের কর্মসূচিতে অনুপস্থিত নেতাদের তালিকা করছে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ও জেলার পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের মাঠের কর্মসূচি চলাকালে এ কাজ করছেন। যারা উপস্থিত থাকবেন তারা স্বাক্ষর করছেন। যারা নেই তাদের স্বাক্ষরের ঘর ফাঁকা থাকছে। এ কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানান, আগামীতে কঠোর কর্মসূচি আসছে। এবার পিছু হটার সুযোগ নেই। যারা অনুপস্থিত থাকবেন; তাদের নেতৃত্ব কিংবা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেশি, রাজপথে টিকে থাকতে পারবেন তাদের নিয়েই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা উপস্থিত ও অনুপস্থিত নেতাদের তালিকা করছেন। তারা প্রত্যেক ইউনিটের অংশে গিয়ে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিচ্ছেন। হাজিরা তালিকায় সবার ওপরে লেখা- ‘কর্মসূচির নাম ও তারিখ।’ নিচে লেখা- নেতার নাম, পদবি, ইউনিট ও স্বাক্ষর। দুপুর আড়াইটার দিকে লালবাগ ও নিউমার্কেট থানার হাজিরা তালিকায় অনেক নেতার স্বাক্ষরের ঘর খালি থাকতে দেখা গেছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, কারা কয়দিন উপস্থিত ও অনুপস্থিত থাকছেন তার লিখিত প্রমাণ রাখা হচ্ছে। পরে অনুপস্থিতির কারণ জানা হবে। কেউ যদি কর্মসূচিতে ইচ্ছা করে না আসেন তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বাধা থাকে তাহলে তা বিবেচনা করা হবে। পরিস্থিতি মোতাবেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দায়িত্বে ফাঁকিবাজি বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এটা ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগেও করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গেল স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়। বিভাগীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠের পরিস্থিতি লিখিত আকারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেবেন। প্রত্যেক কর্মসূচির পর তা রিভিউ করা হবে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে- সামনে বিশেষ করে ঢাকায় বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। 

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক সময়ের আলোকে বলেন, আমরা অগোচরে এ কাজটি করে যাচ্ছি। অনেক সময় দেখা যায়, ইউনিটের সিনিয়র নেতারা কর্মসূচিতে আসেন না; শপথ ভঙ্গ করছেন। মুখে আন্দোলনের কথা বলে দায়িত্বে অবহেলা করছেন; তাদের চিহ্নিত করতে আমরা উত্তর-দক্ষিণের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওয়ার্ডসহ সব ইউনিটকে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে এ তালিকার মাধ্যমে। মাঠের সক্রিয়তা দেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পুরস্কার ও তিরস্কার করা হবে। 

ঢাকা জেলা বিএনপির একজন শীর্ষনেতা সময়ের আলোকে বলেন, যখন আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, তখন দেখা যায় প্রথম সারির নেতারা ঘরে বসে আছেন। ফেসবুকে পোস্ট করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। এতে মধ্যমসারির নেতা ও মাঠের কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। কর্মসূচিতে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়দের তালিকা করা হচ্ছে। পদ আঁকড়ে বসে থাকার দিন ফুরিয়ে গেছে। এবার সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রত্যেক কর্মসূচির পর আমরা ইউনিটের নেতাদের রিপোর্টও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে পাঠিয়েছি। এতে সক্রিয়রা আরও উৎসাহিত হবেন।

আর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম (শ্যামপুর) সময়ের আলোকে বলেন, কেউ কাজ না করেই পারিশ্রমিক পাবে, তা হবে না। ফাঁকিবাজির রাজনীতির দিন শেষ। এখন জবাবদিহির রাজনীতি করতে হবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দল যাতে সক্রিয়দের অগ্রাধিকার দেয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বুধবারের কর্মসূচিতে তুলনামূলক লোকসমাগম কম দেখা গেছে। তার কারণ হিসেবে পল্লবী থানা যুবদলের নেতা লোকমান হোসেন বলেন, ‘ভাই আজ বুধবার, ওয়ার্কিং ডে। সবারই টুকটাক কিছু কাজ থাকে। কর্ম করে খায়। তারা সবসময় ছুটি পায় না। ওয়ার্কিং ডে-তে সবসময় ব্যাপক সমাগম ঘটানো কঠিন। তবুও আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে আসতে। কিন্তু বাস্তবতা তো মানতে হবে।’ 

নিউমার্কেট থানা বিএনপির নেতা আবদুর রাজ্জাক জানান, তাদের ইউনিট দুই গ্রুপে বিভক্ত। একটির নেতৃত্ব দেন সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন ও আরেকটিতে আছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী। এ জন্য লোকবল কম হচ্ছে। ইউনিটের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্ব মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Share this post

Join the conversation