01:29:57 pm
Sunday, June 21

ইউক্রেনজুড়ে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র ট্যাঙ্ক সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে (২৬ জানুয়ারি) ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া ৩০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এদিকে প্রতিশ্রুত ট্যাঙ্ক দ্রুত পাঠাতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্যাঙ্কের পর কিয়েভ এবার পশ্চিমাদের কাছে যুদ্ধবিমান চাইছে। তবে জার্মানি সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র ট্যাঙ্ক সরবরাহের ঘোষণা দেওয়ার পর দিন বৃহস্পতিবার সকালে (২৬ জানুয়ারি) ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী দাবি করেছে, রাশিয়া ৩০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এদিকে প্রতিশ্রুত ট্যাঙ্ক দ্রুত পাঠাতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্যাঙ্কের পর কিয়েভ এবার পশ্চিমাদের কাছে যুদ্ধবিমান চাইছে। তবে জার্মানি সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত ইউক্রেনীয় টেলিভিশনকে বলেন, মুরমানস্ক বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা রুশ টিইউ-৯৫ যুদ্ধবিমান থেকে একাধিক শহরে হামলা চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, শত্রুদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। এদিকে গভর্নর সের্হি বোর্জভ বলেন, কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের পশ্চিম-মধ্য ভিন্নিতসিয়া অঞ্চলে আঘাত হানে। কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। আরও দুজন আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেখানকার মেয়র। দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী ওডেসাতেও একই হামলা হয়েছে।
জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে উন্নত প্রযুক্তির সামরিক ট্যাঙ্ক পাঠানোর ঘোষণার পর দিনই বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া। অনেক নাটকীয়তার পর ১৪টি লেপার্ড-২ ট্যাঙ্ক পাঠাতে রাজি হয় জার্মানি। এরপরই চমকে দেওয়ার মতো ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। তারা জেলেনস্কির সরকারকে সহায়তায় ৩১টি শক্তিশালী ‘আব্রামস’ ট্যাঙ্ক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পরে বলে ধারণা করছেন পশ্চিমা বিশ্লেষকরা। 
দ্রুত ট্যাঙ্ক পাঠানোর আহ্বান জেলেনস্কির : ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিয়েভকে অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। এসব ট্যাঙ্ক দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এক ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান পাঠানোরও তাগিদ দেন তিনি। পশ্চিমা মিত্রদের ট্যাঙ্ক সরবরাহের ঘোষণায় ইউক্রেনকে শত্রুমুক্ত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। যদিও গত মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, তার দেশকে রাশিয়ার মতো শত্রুকে পরাজিত করতে অন্তত ৩০০ যুদ্ধ ট্যাঙ্ক প্রয়োজন।
এবার যুদ্ধবিমান চায় কিয়েভ, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান জার্মানির: যুদ্ধ শুরুর বছরখানেকের মাথায় এসে মিত্রদের কাছ থেকে ট্যাঙ্ক পাওয়ার ঘোষণা ইউক্রেনের জন্য অন্যতম অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দেশটি এতেই খুশি নয়; এবার দেশটির চাওয়া অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেস্কি রেজনিকভের উপদেষ্টা ইউরি সাক বলেন, পরবর্তী বড় চাওয়া হবে যুদ্ধবিমান ‘আমরা যদি সেগুলো (যুদ্ধবিমান) পেয়ে যাই, তবে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জনগুলো অপরিসীম হবে...এটা শুধু এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নয়। এটা চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, যা আমরা চাই।’ বলেছেন তিনি। 
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর কাছে সাবেক সোভিয়েত আমলের যুদ্ধবিমান রয়েছে। পুরোনো এসব যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে শক্তিশালী রুশবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তাই চলমান যুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা কিয়েভের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দেশটিকে অস্ত্রসহায়তা নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনা রয়েছে; এর পরও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো অর্থ-অস্ত্রসহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
ইউরি সাক বলেন, ‘তারা (মিত্ররা) আমাদের শুরুতে ভারী কামান দিতে চায়নি, পরে দিয়েছে। এমনকি রকেটব্যবস্থা হিমার্স দিতে চায়নি, পরে সেটাও দিয়েছে। তারা আমাদের ট্যাঙ্ক দিতে চায়নি, এখন ট্যাঙ্কও দিচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়া এমন কিছু নেই, যা আমরা পাব না।’
তবে ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ। বুধবার তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, ইউক্রেনকে যুদ্ধবিমান দেওয়ার বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি; আমি এখনও সেটাই বলছি।’