10:07:16 am
Sunday, June 21

আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির তোড়জোড়

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯.৯২ শতাংশ বাড়ানোর দেড় মাসের মাথায় চলতি মাসে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয় খুচরা পর্যায়ে। দুই সপ্তাহ না পেরোতেই সম্প্রতি আবারও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এবার বিইআরসির কাছে নয়, আবেদন জানানো হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগে। সরকারের নির্বাহী আদেশে দাম বাড়ানো হয় সে জন্য এই প্রস্তাব করেছে

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯.৯২ শতাংশ বাড়ানোর দেড় মাসের মাথায় চলতি মাসে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয় খুচরা পর্যায়ে। দুই সপ্তাহ না পেরোতেই সম্প্রতি আবারও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এবার বিইআরসির কাছে নয়, আবেদন জানানো হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগে। সরকারের নির্বাহী আদেশে দাম বাড়ানো হয় সে জন্য এই প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।


এর কারণ হিসেবে পিডিবি বলছে, গত ডিসেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। এতে প্রতি ইউনিটে পিডিবির ঘাটতি দাঁড়াবে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা। উপরন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ১৭৯ শতাংশ বাড়ানোয় লোকসান আরও বাড়বে। এতে ব্যয় আরও প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে যাবে। ইউনিটপ্রতি ঘাটতি বাড়বে আরও এক টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সে জন্য ভর্তুকি কমাতে পাইকারি বিদ্যুৎ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বা আট দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার ৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ৭০ পয়সা হবে। এ ছাড়া চলতি মাসে গ্রাহক পর্যায়ে দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর পরও বিতরণ কোম্পানিগুলোর গড়ে ১ টাকা ৩১ পয়সা লোকসান হচ্ছে। তাই ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিডিবির প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো পিডিবির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি ব্যয় একটি বড় অংশ। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যয় অনেক বেশি। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এবং বরাদ্দকৃত গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় ফার্নেস অয়েল ও কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ফার্নেস অয়েল আমদানি পর্যায়ের শুল্ক ও করাদি অব্যাহতির সুবিধা প্রত্যাহার করায় ফার্নেস অয়েলে আমদানি পর্যায়ের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তরল জ্বালানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের ফলে বিউবোর ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাবিউবোর ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ৬.৩০ টাকার স্থলে অর্থবছরে ৮.৫৪ টাকা হয়েছে। 


সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহকৃত গ্যাসের বিদ্যমান মূল্য প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ২ পয়সা থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করায় বিউবোর বছরে প্রায় ১০.৫৭১ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ১.২১ টাকা বৃদ্ধি পাবে। আর কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে গড় উৎপাদন ব্যয় ১ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়বে। এতে চলতি অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় বেড়ে হবে ১০ টাকা ৪৮ পয়সা। এর সঙ্গে সঞ্চালন লোকসান ও বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল যোগ করে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ১০ টাকা ৯৫ পয়সা। এ ব্যয়ের সঙ্গে ৬ শতাংশ উৎসে কর যোগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ১১ টাকা ৫৪ পয়সা।


প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, বাল্ক মূল্যহারের সঙ্গে হুইলিং চার্জ ২৯ পয়সা যোগ করে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ কেনার ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬ টাকা ৯৯ পয়সা। এর সঙ্গে বিতরণ লোকসান (৭.৯৫ শতাংশ) যোগ হবে আরও ৬০ পয়সা। আর বিতরণ ব্যয় যোগ হবে আরও ১ টাকা ২১ পয়সা। এতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় দাঁড়াবে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। তবে জানুয়ারি থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্যহার করা হয়েছে ৭ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রতি ইউনিটে গড়ে ১ টাকা ৩১ পয়সা লোকসান করছে।


এ অবস্থায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আরও ৫ শতাংশ বা ৩৭ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় মূল্যহার দাঁড়াবে ৭ টাকা ৮৬ পয়সা, বর্তমানে যা ৭ টাকা ৪৯ পয়সা। আর ডিসেম্বর পর্যন্ত এ মূল্যহার ছিল ৭ টাকা ১৩ পয়সা। তবে আরও ৫ শতাংশ মূল্যহার বাড়ানোর পরও বিতরণ পর্যায়ে গড়ে ৯৪ পয়সা ঘাটতি তথা লোকসান থাকবে।


ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়বে কি না জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, সময় হলে জানতে পারবেন। এ বিষয়ে এখনই আমরা কিছু বলছি না।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান সময়ের আলোকে বলেন, আমরা তো বিইআরসির কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তখন বিইআরসির কারিগরি কমিটি ১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু নির্বাহী আদেশে ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। এতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর অনেক লস হচ্ছে। দাম না বাড়ানোর বিকল্প নেই।


আবারও দাম বাড়ানোর আবেদন করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিইআরসিতে যে আবেদন জানিয়েছি সেটার কপি সবখানে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত বলা আছে। নতুন করে আবেদন করা হয়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন সময়ের আলোকে বলেন, বিইআরসিই তো ১৫ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল, সেখানে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পিডিবি ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর এতে লোকসান হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তবে বাস্তবায়ন কবে হবে তা বলা যাচ্ছে না।