01:14:22 am
Wednesday, August 26

দ্রব্যমূল্যের উদ্বেগ পিছু ছাড়ছে না

মার্চের শেষভাগে শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। রোজা ঘিরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী ডিসিদের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে মনিটর করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরও দ্রব্যমূল্যের উদ্বেগ সরকারের পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সঙ্গে একান্ত সভা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হলেও মূল আলোচনা চলে যায় দ্রব্যমূল্যের দিকে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি ছিল মূলত সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার এখনও তুলনামূলক কম। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে, বেশি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী ও দেশবিরোধী একটি চক্র নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কালোবাজারি ও মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। ফলে জনগণ দুর্ভোগে পড়ে। 

প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে, বর্তমানে জনসাধারণের নিত্যদিনের জীবিকা নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাজারে চিনির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে চিনির সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে চিনির মূল্য প্রতি কেজি ১২০ টাকা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চিনির দাম বাড়িয়েছে সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশেন।

চালের বাজার লাগামহীন হওয়ার কথাও বিশেষভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি তেল আর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জের হিসেবে পরিবহন খরচ বাড়ানো হয়েছে। আর এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে চালের ওপর। 

চালকল মালিকদের কথা উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকার ফলে মিলে চাল উৎপাদন কম হচ্ছে। আবার চাল মজুদের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে চাল ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় ্রব্যের বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে ডাল থেকে শুরু করে ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ সব ধরনের পণ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে জনজীবনে হতাশা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের শেষ মাস পর্যন্ত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মন্দার কারণে রফতানি বাজারের চাহিদা অনেকাংশে কমে গেছে। ডলার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, খোলাবাজারে ডলার সংকট বেড়েই চলেছে। কার্ব মার্কেটের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ডলার ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। এর ফলে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ প্রবাসীর রেমিট্যান্স সঠিক পন্থায় দেশে আসছে না। হুন্ডি বেড়েছে। ডিজিটাল হুন্ডির কবলে পড়ে বৈধপথে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ কমেছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এর জন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়েছে। কিছু অসাধু এজেন্ট এ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এতদিন শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তা ছিল। এখন খাদ্যবহির্ভ‚ত পণ্য ও সেবার মূল্যস্ফীতি নিয়েও চিন্তা বেড়েছে। 

এদিকে প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিষয়ে পরামর্শ রয়েছে। এর মধ্যে বিলাসী পণ্য আমদানি থেকে বিরত থাকা, ডলার পাচার হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা, খাদ্য, শিশুখাদ্য, সার জ্বালানি, বিদ্যুৎ, কৃষিসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির সুযোগ অব্যাহত রাখা। একই সঙ্গে অতি প্রয়োজনীয় নয়, এসব পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, আগামী রমজানকে সামনে রেখে আর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে ১৫টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিটি আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কমিটি গঠন করা হবে। 

ডলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি ব্যয় মেটাতে চাহিদামতো ডলারের জোগান পাবেন ব্যবসায়ীরা। আমদানিতে এলসি খুলতে ২৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি ডলার সরবরাহ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Share this post

Join the conversation