03:40:10 am
Wednesday, August 26

৮ বছর পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না মজিদের

১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর নেতা মো. আব্দুল মজিদকে (৮০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৩)। দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর বুধবার দিবাগত রাতে মাদারীপুর সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
  
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আব্দুল মজিদ ১৯৭০ সালে জামায়াতে ইসলামীর পূর্বধলা থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মজিদ রাজাকারদের প্রধান বাহিনী আল-বদর পূর্বধলা রামপুর থানা কমিটির প্রধান হন। একাত্তরের ২১ আগস্ট দুপুরে রামপুরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের বাড়িতে খালেকসহ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর খালেকের মরদেহ পাশের কংস নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় কোকখালী নদীতে ফেলা হয়। ওইদিন আল-বদর বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালীন মজিদ পূর্ব মৌদাম গ্রামে একটি মুক্তি কয়েদখানা গড়ে তোলেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যা করতেন তিনি।

আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন পালিয়ে বেঁচে যাওয়া আব্দুল কাদের ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আব্দুল মজিদসহ চারজনকে আসামি করে মামলা রুজু করেন। হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৯ সালে আরও তিনজনসহ মোট সাত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে এ মামলার দুজন আসামি আহম্মদ আলী ও আব্দুর রহমান মারা যান এবং রায় হওয়ার পর পলাতক অবস্থায় মারা যান আরও দুই আসামি রদ্দিন মিয়া ও আব্দুস সালাম বেগ। অন্য দুই আসামি আব্দুল খালেক তালুকদার ও কবির খাঁ বর্তমানে পলাতক।

অন্যদিকে মামলার বিচারকাজ চলাকালে কোনো হাজিরা না দিয়ে ২০১৫ সালে আব্দুল মজিদ তার নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় এসে ফকিরাপুল এলাকায় কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এরপর এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় মাদারীপুরে গিয়ে আত্মগোপন করেন এবং সেখানকার একটি কামিল মাদরাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে পলাতক জীবন শুরু করেন। 

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকায় নিয়মিত মজিদকে বাড়ি থেকে টাকা পাঠানো হতো। আত্মগোপনে থাকাকালে মজিদ সাধারণত জনসমাগম, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াও তার ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ পায় এমন স্থান এড়িয়ে চলতেন।

Share this post

Join the conversation