সমাবেশস্থল দখলের অভিযোগ গণতন্ত্র মঞ্চের
নিজদের সমাবেশস্থল দখলের অভিযোগ করেছে গণতন্ত্র মঞ্চ। মঞ্চের নেতা গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক জানান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের জন্য নির্ধারিত সমাবেশস্থল দখলে নিয়েছে গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ। গণতন্ত্র মঞ্চ এর আগেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে। শনিবারের কর্মসূচিও ছিল পূর্বনির্ধারিত। কিন্তু আগের রাতে প্রেসক্লাবের সামনে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে নাম মিলিয়ে ‘গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ’ নামে ওই মঞ্চ করা হয়।
সরকারের এজেন্সির টাকা দিয়ে এসব মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ করে নুরুল হক আরও বলেন, এসব রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমানোসহ ১৪ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
একই দাবিতে 'গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ' নামে আরেকটি জোট একই সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করেছে। এর আগের কর্মসূচিগুলো গণতন্ত্র মঞ্চ প্রেসক্লাবের সামনের যে জায়গায় পালন করেছিল, গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ সেখানেই মঞ্চ তৈরি করে শনিবার কর্মসূচি পালন করেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গণতন্ত্র মঞ্চের সমাবেশ থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার নিজেরা খেলে না। আজকাল মুখোশ পরে খেলে। জনগণ তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দেবে। কর্মসূচি পালনে নানা বাধা তৈরি হবেই। তার মধ্য দিয়ে তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
প্রেসক্লাবের ঠিক সামনে গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ কর্মসূচি করার কারণে কিছুটা পশ্চিম দিকে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। দুটি মঞ্চের কর্মসূচি কাছাকাছি জায়গায় হওয়ায় প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।
তবে এ বিষয়ে গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু জানান, তাদের কর্মসূচি বেশ আগেই নির্ধারিত ছিল এবং তা প্রশাসনকে অবহিতও করা হয়।
৭ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ’ নামে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন। ১৭টি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘গণতন্ত্র বিকাশ মঞ্চ’ নামে একটি নির্বাচনী জোট আত্মপ্রকাশ হয়েছিল।
এই জোটের দলগুলো হচ্ছে— ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী), ডেমোক্রেটিক পার্টি বাংলাদেশ (ডিপিবি), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বিজিএ), বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ নাগরিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ কনজারভেটিভ পার্টি (বিসিপি), গণমুক্তি পার্টি, বাংলাদেশ পল্লি উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পার্টি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ আইডিয়াল পার্টি ও বাংলাদেশ জনকল্যাণ পার্টি।
গত বছরের ৮ আগস্ট সাত দলীয় জোট তথা ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এই জোটভুক্ত দলগুলো হচ্ছে—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।

Join the conversation