07:44:02 am
Wednesday, August 26

চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিচারিক আদালত। ওই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিম্ন আদালতের দেয়া রায় স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। আট সপ্তাহের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। 

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই আদেশ দেয় আদালত। আইনজীবী জানিয়েছেন হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।


বিচারপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের এ সংক্রান্ত আদেশের পর আদালত থেকে বের হয়ে জিএম কাদেরের আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এই তথ্য জানান। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন তিনি। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইনসান উদ্দিন শেখ। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মামুনুর রশিদ।

আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে জিএম কাদেরের আপিল গত ১৯ জানুয়ারি না-মঞ্জুর করে ঢাকার জেলা জজ আদালত। ওই আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রুলে। আইনজীবী বলেন, নিম্ন আদাল‌তের দেওয়া নি‌ষেধাজ্ঞা স্থ‌গিত ক‌রে রুলও জা‌রি ক‌রে‌ছে হাই‌কোর্ট। ওই রুলে নিষেধাজ্ঞার আদেশটি কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। মামলার বাদী ও জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধাকে আট সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের আবেদন খারিজ করে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয় ঢাকার জেলা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া। ওই আদেশের ফলে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল ছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের।

দলে জিএম কাদেরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ৪ অক্টোবর মামলা করেন জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা জিয়াউল হক মৃধা। পরে জিএম কাদের যাতে জাপার বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন সে বিষয়ে ৩০ অক্টোবর (২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বরের গঠনতন্ত্রের আলোকে) পার্টির কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারে এবং কোনো কার্য গ্রহণ করতে না পারে সে মর্মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত। পরে এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে জিএম কাদেরের করা আবেদন ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেয় একই আদালত।

এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আবেদন করেন জিএম কাদের। জেলা জজ আবেদন শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করে। এরপর শুনানির আদেশ এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করলে ২৪ নভেম্বর জেলা জজ আদালত সেটিও খারিজ করে দেয়। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন জি এম কাদের। পরে ২৯ নভেম্বর শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৩০ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞার আদেশ ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে রুল জারি করে।


পরে জিয়াউল হক মৃধা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন। গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বারজজ আদালত। একই সঙ্গে আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় এটি আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর হাইকোর্টে একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকার পরও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন জিএম কাদের।

পরে ৫ মার্চ গাজীপুর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা আতাউর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর শিকদার, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক রফিকুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মো. আজিজকে বহিষ্কার করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর বাদী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করেন। অন্যদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউল হক মৃধাকেও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করেন।

Share this post

Join the conversation