03:12:01 pm
Sunday, June 21

রোহিঙ্গা নারীদের খোঁজ-খবর নিলেন বেলজিয়ামের রানি

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ সফররত বেলজিয়ামের রানি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দূত মাথিল্ডে। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টায় বেলজিয়ামের রানি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।

পরে বিমানবন্দর থেকে রানিকে বেলা ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ৩ নম্বর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রানির সঙ্গে ছিলেন কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ দৌজা নয়ন বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে জাতিসংঘের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং এ দেশের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করার জন্য রানি কক্সবাজারে এসেছেন। 

বেলজিয়ামের রানি রোহিঙ্গা শিশুদের লার্নিং সেন্টারে গিয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি দেখেন। কথা বলেন রোহিঙ্গা শিশু ও নারীদের সঙ্গে। পরে ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। ক্যাম্পে জাতিসংঘের কার্যক্রমের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন রানি মাথিল্ডে।

শামসুদ দৌজা নয়ন আরও বলেন, বেলজিয়ামের রানির দিনব্যাপী সফরে শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘের কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বেলজিয়ামের রানির এ সফর বাংলাদেশ-বেলজিয়ামের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের যে সহায়তা তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালো আলোচনা হবে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সসম্মানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহায়ক হবে।

রানির সঙ্গে আলাপ শেষে কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী বলেন, বেলজিয়ামের রানি মিয়ানমারে আমাদের ওপর নির্যাতনের খোঁজ-খবর নেন এবং বর্তমানে কেমন আছি তা জানতে চেয়েছেন।
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে তিনি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেন। 

এর আগে কক্সবাজার থেকে উখিয়ার কুতুপালং পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অন্যান্য দিনের তুলনায় যান চলাচল কম ছিল। সাধারণত পথচারীরা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।